শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি বিষয়ক সেমিনার

‘বিশেষ বিবেচনায় বিয়ের সুযোগ অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করবে’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, ১৮ বছরের নিচে বিশেষ বিবেচনায় বিয়ের যে প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে সেটা বাল্য বিবাহ নির্মূলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করবে। দুষ্ট লোকেরা এর সুযোগ নিতে পারে এবং বাল্য বিবাহের হার বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
 
রবিবার বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি: অপশনাল প্রটোকল ৩ অনুস্বাক্ষর এর গুরুত্ব বিষয়ক জাতীয় সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
 
বাংলাদেশে চলমান শিশু অধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে দাতা সংস্থা টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস এবং এসওএস আন্তর্জাতিক শিশু পল্লি বাংলাদেশ এর সহায়তায় বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এর আয়োজন করে।
 
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ শাখার মহাপরিচালক সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবীর এবং এসওএস আন্তর্জাতিক শিশু পল্লী বাংলাদেশ এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর গোলাম আহমেদ ইসহাক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দি চিলড্র্যান ইন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে জনাব মামুনুর রশিদ।
 
কাজী রিয়াজুল হক আরও বলেন,শিশুর অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই তাদের পুনর্বাসন ও সংশোধন করতে হবে তা না হলে ভবিষ্যতে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। সরকার নারী ও শিশুর সুরক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। 
 
মাহমুদুল কবীর বলেন, আমাদের দেশের শিশুরা দেশের বর্তমান আইন কানুন সম্পর্কেই জানেনা। সুতরাং স্বাক্ষরের আগে আমাদের নিজেদের মধ্যে ডায়ালগ করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘ শিশু অধিকার সনদ স্বাক্ষর করেনি কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা শিশুদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট নয় বা তাদের দেশে শিশুরা নির্যাতিত। আমরা শিশু অধিকার সনদের প্রথম ২০টি অনুস্বাক্ষরকারী দেশের মধ্যে একটি কিন্তু আমাদের দেশে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার।
 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মামুনুর রশিদ জানান, শিশু সুরক্ষার ধারণাটি সাধারণভাবে সহিংসতা, শোষণ, নিপীড়ন, অপমান বা অমর্যাদা হতে শিশুর সুরক্ষাকে বুঝায়। আমরা শিশুর সুরক্ষার ক্ষেত্রে সহিংসতার বিষয়টি সাধারণভাবে গুরুত্ব দেই কিন্তু শোষণ, নিপীড়ন, অপমান এর বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দেই না। শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকার বিষয়টি যেভাবে সামনে আসে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় আসে না। শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতিসমূহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০, জাতীয় শিশু নীতি ২০১১, শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১২, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা চূড়ান্তকরণ ২০১৩, শিশু আইন ২০১৩, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫, করপোরাল পানিশম্যান্ট বিষয়ক হাইকোর্ট এর নির্দেশনা ২০১১, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ হওয়ার পরেও ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ধর্ষণ বেড়েছে ১৬১ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে গত বছরের প্রথম চার মাসের চেয়ে ধর্ষণ বেড়েছে ১৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে ৫২১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয় এর মধ্যে ৯৯ জন শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন বেড়েছে ২২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০১৫ সালের আলোচিত বিষয় ছিল শিশু হত্যা। হত্যার শিকার হয় ২৯২ জন শিশু। বাবা মায়ের বিরুদ্ধে ৪০টি শিশু হত্যার অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে ১০১ জন শিশু রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে ২৫ জন শিশু নিহত হয়। আহত হয় ৭৬ জন। গত বছর ২২৮ জন শিশু আত্মহত্যা করে যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। শুধু শিশুদের জন ১০৯৮ হেল্পলাইন, নারী ও শিশুর ১০৯২১ হেল্পলাইন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ,ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়  জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান কেন্দ্র, সাইবার অপরাধে সহায়তা প্রদান এবং শিশু বান্ধব পুলিশ ডেস্ক এর কথা উল্লেখ করা হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই