১৩-তে বিয়ে ১৪-তে আত্মহত্যা

 
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হতভাগ্য এক কিশোরীর ১৩ বছর চার মাসে বিয়ে ও ১৪ বছরে আত্মহত্যার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মাঠেরহাট হরিপুর গ্রামে শনিবার রাতে এ আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হতভাগ্য ওই কিশোরী গৃহবধূ সুমি আকতার (১৪) ওই গ্রামের আব্দুল গোফফার মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় রওশনবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
 
সুমির বাবা আব্দুল গোফফার মিয়াসহ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত আট মাস আগে প্রেমের টানে বাপ-মা পরিবার-পরিজন ছেড়ে সুমি একই গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ছেলে আশরাফ আলীর হাত ধরে পালিয়ে যায়। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপরই তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মধুচন্দ্রিমার পর দাম্পত্য জীবনে কলহের কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অবশেষে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে সুমি। কিন্তু এই অল্প বয়সে প্রেম ও বিয়ে তাকে যেন কেমন বদলে দেয়। তার এই বদলটা অনুভব করে বাবা-মা আর ভাই-বোনরা।
 
সুমির বাবা আব্দুল গোফফার মিয়া জানান, শনিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন সুমিকে বাড়িতে রেখে সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরে দাওয়াত খেতে যায়। রাতে বাড়ি ফিরে দেখে সুমির লাশ তার শোয়ার ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়নায় পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে। পলাশবাড়ী থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, সুমির মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।