হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা প্রায়ই শোনা যায়। লাগেজ খুঁজে না পাওয়া, লাগেজ কেটে মালামাল চুরিসহ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। এর সঙ্গে নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে ট্রলি খুঁজে না পাওয়া। বিমান থেকে নামার পর যাত্রীরা ইমিগ্রেশন শেষ করে বেল্টে গিয়ে অপেক্ষা করেন লাগেজের জন্য। কিছুদিন ধরে বেল্টের পাশে ট্রলি খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা ফ্লাইটে ৪০০ যাত্রী এলেও ট্রলি থাকে ২০/৩০টা। এই ট্রলিগুলো আসলে পড়ে থাকে গাড়ি পার্কিংয়ে বা বাইরের ফুলবাগানগুলোতে।
বিমানবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, অযত্নে বা অবহেলায় ট্রলিগুলো বাইরে পড়ে আছে। অথচ ভেতরে যাত্রীরা ট্রলি খুঁজে পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীরাই বাইরে এসে ট্রলি ভেতরে নিয়ে মালামাল তুলছেন। এতে করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়ছে। কারণ একজন যাত্রী বাইরে আসার পর তিনি ট্রলির সঙ্গে অন্য কিছু নিয়ে ভেতরে যাচ্ছেন কি-না তাও তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি আছে আড়াই হাজারের মতো। যাত্রীরা ইমিগ্রেশনে কার্যক্রম শেষ করে লাগেজের জন্য ট্রলি খুঁজতে থাকেন। তখন বেশির ভাগ যাত্রী ভিতরে ট্রলি পান না। সেই ট্রলি তারা নিজেরাই বাহির থেকে সংগ্রহ করেন। ভেতরে ঘুরে দেখা গেছে, ৯টি বেল্টের মধ্যে একটি বেল্ট অকেজো। আটটি চালু থাকা বেল্টের আশপাশে ট্রলি আছে হাতে গোনা কয়েকটি করে। ফলে যাত্রীরা বাইরে এসেই ট্রলি নিয়ে ভেতরে যান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরটি হল একটি দেশের অলঙ্কারের মতো। বিমানবন্দর দেখলেই বোঝা যায় সেদেশের মানুষ কতটা গোছালো। অথচ আমাদের বিমানবন্দরটি দেখলেই যে কোনো মানুষ বিরক্ত হওয়ার কথা।
বিমানবন্দরে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ট্রলিগুলো যাদের গুছিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার কথা, সেই ব্যক্তিরাই নানা ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তারা কিভাবে টু-পাইস কামাই করবেন সেদিকেই সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হল যাদের এগুলো দেখভাল করার কথা, তারাই এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেন না। ফলে কর্মচারীরা নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে। দায়িত্বের ব্যাপারে খুবই অসচেতন। ফলে খুঁজে পাওয়া যায় না ট্রলি। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক যাত্রীকেই এ ব্যাপারে চরম বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল করিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। অবশ্যই যাত্রীরা বাইরে গিয়ে ট্রলি নিয়ে ভেতরে আসতে পারে না। আমাদের লোকজনেরই এটা এনে রাখার কথা। আমাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা আছে সত্যি। তার মানে এই নয় যে, এখানে দায়িত্বের ব্যাপারে কেউ অবহেলা করবে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেটা দেখব।’
বিমানবন্দরের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরের এই ধরনের ব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কেউ দেখেন না। বিশেষ করে বিদেশি যাত্রীরা যখন ট্রলি না পায় তখন তারা খুবই বিরক্ত হন। এটা দেশের জন্য ভালো না। আমাদের পর্যটন ব্যবসা বাড়াতে হলে বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা অবশ্যই বাড়াতে হবে।
ইত্তেফাক/এএন