আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ চরমে

সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। গত সাতদিন ধরে ৩০টি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক সর্বনিম্ন বেতন ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। ফলে কারখানাগুলোতে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। অনেক কারখানা বায়ারদের অর্ডার সময় মতো সরবরাহ করতে না পারার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 
একটি সূত্র জানায়, ভুইফোঁড় কিছু শ্রমিক সংগঠন ও একটি গোষ্ঠীর ইন্দোনে এ বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা।    ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গত রবিবার রাতে বাইপাইলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নুসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। নৌমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণির বিদেশি এনজিও’র অর্থায়নে কিছু নামধারী শ্রমিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাধারণ শ্রমিকদের উস্কে দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সরকার শ্রমিক বান্ধব। তাই আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ করা হবে।
 
গত সাতদিন ধরে আশুলিয়া এলাকার ডিকে নিটওয়্যার, শেড ফ্যাশন, উইন্ডি গ্রুপসহ ৩০টি পোশাক কারখানায় উত্পাদন বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি পাঁচ হাজার তিনশ টাকা। এ টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা যায় না। তাই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। দি রোজ লি.  কারখানার জিএম সাধন দে বলেন, টানা শ্রমিক অসন্তোষে সময় মতো শিফটমেন্টের কাজ করতে পারছি না।
 
একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি চক্র ভুয়া শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের জন্য কারখানাগুলোতে আন্দোলন উস্কে দিচ্ছে। এ চক্রটি কারখানায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসার আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য বেপরোয়া। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনে ওই চক্রটি নেপথ্যে উস্কানি দিয়ে ও তাদের সঙ্গে মিশে আন্দোলনের গতি তীব্র করছে।
 
উল্লেখ্য, ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৩ সালে এ অঞ্চলে কিছু ভুইফোঁড় সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিল। সে সময় শ্রমিক নেতা নামধারী তজিবর, সানি নামে দুজনকে গোয়েন্দা সংস্থা চিহ্নিত করে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছিল। এমনই একটি শ্রমিক সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন’। এ ভুইফোঁড় সংগঠনের দুই শতাধিক সদস্যের একটি বাহিনী রয়েছে। সংগঠনটির মূল কাজ হচ্ছে শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে কারখানার মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা। এ সংগঠনের নেতারা ইতিপূর্বে শারমিন গ্রুপে চাঁদা চেয়ে ব্যর্থ হয়ে কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের আন্দোলন উস্কে দিয়েছিল। এ ব্যাপারে কারখানাটির নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) ভুইফোঁড় সংগঠনটির নেতা শামিমা নাসরিন, শামিম খান, কামরানসহ ৯৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিল।
 
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এবং শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ শ্রমিকদের যারা উস্কে দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ইত্তেফাক/এএন