সকালে খুব বৃষ্টি হয়েছিল। প্রজাপতিটি ঘরের কোণ থেকে বের হতে পারেনি। খুব খিদে পেয়েছে। এতটা বেলা হলো, এখনো নাশতা খাওয়া হয়নি। খিদেয় পেট জ্বলছে।
বৃষ্টি থেমেছে। চারদিকে রোদ ঝলমল করছে। প্রজাপতি আস্তে আস্তে ঘর থেকে বের হয়। সে উড়তে উড়তে বাগানে যায়। বাগানে আরও প্রজাপতি এসেছে। তবে তাদের গায়ের রং এত ভালো না। কোনোটা কালো। কোনোটা শুধু হলুদ। কোনোটা আবার নীল। এই প্রজাপতির গায়েই অনেক রং। পাখায় বেশ কয়েকটি চোখ। চোখগুলো খুব সুন্দর। মায়াকাড়া সুন্দর। মা এই প্রজাপতির নাম দিয়েছে পুষ্পদেবী।
বাগানের কোণে একটা ফড়িং ছিল। সে পুষ্পদেবীকে দেখে হিংসায় মরে যেন। তার মেজাজ বিগড়ে গেছে। সে কেন এত সুন্দর! মনে মনে বলল, এতক্ষণ বৃষ্টি ছিল, সে তখন আসেনি। এখন এসেছে কেন?
পুষ্পদেবী বাগানে এসে ফুলের মধু দিয়ে নাশতা করবে ভাবছে। কিন্তু ফুলের মধুতে মুখ দিতেই মুখ উল্টে এল। সব ফুলের মধু পানসে হয়ে গেছে। পুষ্পদেবীর মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আর তখনই সে ফুলে ফুলে একটু ভালো মধু খুঁজে বেড়াতে লাগল।
একটু দূরে একটি গাছে পুষ্পদেবী ফুলের মধু খেতে বসে। আর তখনই ফড়িংটা বাগানের পুব কোণ থেকে এক লাফে এসে পুষ্পদেবীর সামনে বসল। ফড়িং রাগ করে বলল, এখানে এসেছো কেন?
পুষ্পদেবী হেসে হেসে বলল, কেন আসব না? আমার বুঝি খিদে পায়নি?
ফড়িং বলল, খিদে পেয়েছে তবে আমি কী করব? এখান থেকে যাও বলছি। কোনো প্রজাপতি এখানে মধু খেতে পারবে না।
পুষ্পদেবী বলল, আজকে নাশতা করে চলে যাই। আর আসব না। অন্য বাগানে যাব। আমার যে খুব খিদে। এই কথা বলে পুষ্পদেবী অন্য ফুলে গিয়ে বসে।
সেখানেও ফড়িংটি লাফ দিয়ে গিয়ে বসল। পুষ্পদেবীকে মধু খেতে দেবে না সে। পুষ্পদেবী যেখানেই যায় সেখানেই ফড়িংটি বাধা দেয়।
ফড়িংটি বাধা দিলেও পুষ্পদেবী হাসে।
হাসতে হাসতে একসময় পুষ্পদেবী বলল, তুমি আমার সঙ্গে এমন করছ কেন?
ফড়িং উত্তর দিল, হিংসায়। তুমি এত সুন্দর কেন? তোমার এত সুন্দর জামা কেন? আমার নেই কেন?
পুষ্পদেবী উত্তর দিল, তাতে হিংসা করার কিছু নেই। তোমার যা আছে তাই নিয়ে তুমি খুশি থাকো।
ফড়িং বলল, এত জ্ঞান দিয়ো না। এই বাগান থেকে ভাগো। আমি কোনোদিন তোমাকে এই বাগানে দেখতে চাই না।
পুষ্পদেবী আবার অন্য একটি ফুলে গিয়ে বসল। ফড়িং দূর থেকে লাফ দিয়ে সেখানেও গেল। আর তখনই ওখান থেকে পড়ে গিয়ে ওর একটা পা ভেঙে গেল। পায়ের ব্যথায় ফড়িংটি চিত্কার করে কাঁদতে শুরু করে।
পুষ্পদেবী একটি গাছ থেকে ফুলের মধু এনে ফড়িংয়ের ভাঙা পায়ে লাগায়। ওর পা ভালো না হওয়া পর্যন্ত পুষ্পদেবী পাশেই বসে থাকে। ফড়িং কিছুক্ষণ পর সুস্থ হয়ে ওঠে।
ফড়িংটি ভালো হয়ে পুষ্পদেবীর পাশে বসে। সে পুষ্পদেবীকে বলল, আমি তোমাকে এত বিরক্ত করলাম, আর তুমি আমার ভাঙা পা ঠিক করলে?
পুষ্পদেবী বলল, হ্যাঁ, করলাম।
ফড়িং বলল, তুমি আমার সঙ্গে ঝগড়া করলে না কেন?
পুষ্পদেবী বলল, যারা সুন্দর তারা কখনো ঝগড়া করে না। তুমি না আমাকে সুন্দর বললে। তাহলে আমি কীভাবে ঝগড়া করি?
ফড়িং আবার রেগে গেল। সে বলল, তুমি বলতে চাও আমি সুন্দর না?
পুষ্পদেবী বলল, তুমিও অবশ্য সুন্দর। তোমার চেহারা খুব সুন্দর। কিন্তু তোমার মনও সুন্দর হতে হবে। যাদের মন সুন্দর তারা সত্যিকারের সুন্দর।
পুষ্পদেবী আস্তে আস্তে উড়ে চলে গেল। ফড়িংটি পুষ্পদেবীর দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে রইল। পুষ্পদেবীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার জন্য ওর মন খুব খারাপ হলো। সে মনে মনে বলল, আমার এমন খারাপ ব্যবহার করা উচিত হয়নি। মন সুন্দর করতে হবে। তবেই না সুন্দর!