যুদ্ধে নির্যাতিত চিনুবালা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চায়

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে সম্ভ্রমহানির শিকার চিনুবালা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চান।
 
তিনি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আলদাদপুর (প্রামাণিকপাড়া) গ্রামের মৃত লক্ষণ চন্দ্র মণ্ডলের মেয়ে।
 
চিনুবালা জানায় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বৈশাখ মাসের শেষের দিকে বাড়ী থেকে পরিবার সহ গ্রামবাসীর সাথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ফুলবাড়ী উপজেলার বারাইহাট নামক স্থানে পাক সেনাদের হাতে আটক হন। সেখানে প্রায় ৩/৪ শ' পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকসেনারা তাকে সহ ২০/২৫ জন মেয়েকে ফুলবাড়ী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ফুলবাড়ীতে ৮ দিন আটক রাখার পর সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় সৈয়দপুর ক্যাম্পে। সৈয়দপুর ক্যাম্পে ৩মাস নির্যাতনের পর আবার তাকে সহ ১০/১২ জন মেয়েকে নিয়ে আসা হয় ফুলবাড়ী ক্যাম্পে।
 
পাকসেনাদের হাতে আটক থাকার সময় তাকেসহ প্রতিটি মেয়েকে প্রতিদিন ৫/৭ জন সৈনিক শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সেখান থেকে এক পর্যায়ে চিনুবালা প্রাকৃতিক ডাকের অজুহাতে কৌশলে পালাতে সক্ষম হন। বাড়ী ফিরে চিনুবালা তার বাড়ীতে কাউকে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী রসুলপুর গ্রামের মনসুর ডাক্তারের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে কয়েকদিন পর মুনসুর ডাক্তারের সহযোগিতায় ভারতে গেলে সেখানে আশ্রয় নেয়া পার্শ্ববর্তী খোশলামপুর গ্রামের তার থেকে বয়সে অনেক বড় দিনবন্ধু দাসের সাথে তার বিয়ে হয়।
 
উল্লেখ্য, দিনবন্ধু দাসের স্ত্রীকে খান সেনারা হত্যা করেছিল। দেশ স্বাধীন হলে তারা বাড়ী ফিরে আসেন। ১ যুগ পরে তার স্বামী মারা যান। তার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলের সংসারে অভাব অনটনের মাধ্যমে জীবন-যাপন করছেন। সরকারী সুবিধা বলতে তিনি বর্তমানে বিধবা ভাতা ভোগ করছেন। তার আক্ষেপ ১ জন মুক্তিযোদ্ধার যে সম্মান সরকার দিয়ে যাচ্ছেন সম্ভ্রম হারিয়ে তার তুলনায় তিনি কিছুই পাচ্ছেন না বলে তিনি মনে করেন। তার দাবী দেশ স্বাধীনের পিছনে মুক্তিযোদ্ধাদের যে ভূমিকা ছিল তার চেয়ে তার ভূমিকা কোন অংশেই কম ছিল না। তাই তিনি বীরাঙ্গনা হিসাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দাবী করেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস