ঠাকুরগাঁওয়ের পশিরের জন্য ফেসবুক বন্ধুদের উদ্যোগ

এক সময় এনজিওতে চাকরি করতেন ঠাকুরগাঁওয়ের পশির আহমেদ (৫০)। যদিও সবাই তাকে চেনেন বশির নামে। কোনো এক কারণে এনজিওটিতে থেকে চাকরি চলে যায় তার। এরপর থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন শুরু হয় পশিরের। 
 
অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় পশিরকে। এরই মাঝে বড় ছেলে রশিদুল বিয়ে করেন। এরপর বাড়ির পাশে ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে বসেন রশিদুল। সেই দোকানটিই হয় তাদের একমাত্র উপার্জনের ক্ষেত্র। কিন্তু সেটিও আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে যায়। এরপর আবারো শুরু হয় অভাব। এই অভাবের মাঝে শহরের কোণায় কোণায় কাজের জন্য ছুটতে থাকেন পশির আহমেদ। কিন্তু কোথাও কাজ জুটেনি তার। জুটবেই বা কী করে। এই বয়সে চাকরি পাওয়া বা দেয়া যে বড়ই দুষ্কর।
 
যাহোক, পশির আহমেদের এই অসহায়ত্ব ফেসবুকের মাধ্যমে প্রথমে তুলে ধরেন স্থানীয় সাংবাদিক নুরে আলম। সেটি নজরে আসে জাগো নিউজের সহকারী বার্তা সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগের। 
 
তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে পশির আহমেদের অসহায় জীবন কাহিনী নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন এবং সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বানে দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই সাড়া দেন এবং টাকা পাঠানো শুরু করেন।
 
ফেসবুক বন্ধুদের পাঠানো সাড়ে ১৮ হাজার টাকা অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে পশির আহমেদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এদিন শহরের সরকারপাড়া এলাকায় তার বাড়িতে তার হাতে টাকাটি তুলে দিয়েছে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
 
ইত্তেফাক/এসএস