জন্মেছো বাংলায়

এই মাটি ভিজে গেছে টকটকে লাল রক্তজবার উষ্ণ ভালোবাসা পেয়ে

এই মাটি ভিজে গেছে নিরীহ নিষ্পাপ স্বাধীনতাকামী

নিরস্ত্র জনতার বুকের শোণিতে—পবিত্র এ মাটি।

জয়বাংলা ধ্বনিতে এখনো মার্চের বাতাস নিঃশব্দে স্লোগান দিয়ে যায়,

সেই স্লোগানের ধ্বনি শুনতে পাবে না তুমি

শুনতে হলে তো চাই একাত্তরের সেই শ্রবণ-ইন্দ্রিয় আর

মুক্তিযুদ্ধে অটল বিশ্বাস। যেকোনো গ্রামীণ জনপদে চৈত্র কি বৈশাখে

যদি হেঁটে যাও তুমি এখনো বাংলার বুকে শুনবে মর্মরধ্বনি

শুকনো পাতার হুহু জ্বলন্ত দুপুরে শুনবে নিশ্চিত সেই বজ্রকণ্ঠ আর

জয়বাংলার জয়ধ্বনি একাত্তরের।

 

রাতের আকাশ থেকে এখনো জোছনার সঙ্গে ঝরে পড়ে রক্ত আর অশ্রুরাশি

পতাকাটা সারারাত ভিজে যায় রক্ত-কুয়াশায়

ধ্বনি-প্রতিধ্বনি ওঠে রাতের গভীর থেকে

‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’— শুনতে কি পাও?

 

এরকম কালজয়ী ইতিহাস রক্তের অক্ষরে আর কোনো জাতি

লেখেনাই কোনোদিন, শুধু এই বাংলাদেশ তোমার জন্মভূমি

সেই গৌরবের অধিকারী, বিস্মৃত হয়ো না কোনোদিন

তুমি সেই বীরের বংশধর বাংলার সন্তান, দৃপ্ত অহঙ্কারে শুধু

তুমিই উচ্চকণ্ঠে বলতে পারো পৃথিবীকে—আমি ধারণ করেছি রক্তে

মুক্তিযোদ্ধার রক্ত, বাংলায় জন্মেছি বীর মুজিবের দেশে।