নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর জয়লাভে আশাবাদী আওয়ামী লীগ। তিন কারণে এই জয়ের সম্ভাবনা দেখছে দলটি। কারণগুলো হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের জোয়ার এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার তার সচিবালয় কার্যালয়ে ইত্তেফাককে এ সব কথা বলেন।
নাসিক নির্বাচনে হারলে কী মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে— এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই ভোটযুদ্ধে নৌকার পাল্লাই ভারী। এই নির্বাচন নিয়ে কাউকে আন্দোলন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে।
‘নারায়ণগঞ্জে নীরব বিপ্লব হয়ে যাবে’— বিএনপি নেতাদের এমন আশার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নীরব বিপ্লব হলে তা নৌকার পক্ষেই হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এটাই আমরা চাই। এটাই জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।’
সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে আইভীর বিরোধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেলিনা হায়াত আইভী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। শামীমকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। কিন্তু শামীম সংবাদ সম্মেলন করে দ্বিধা, সংশয় অবসান করে আইভীকে একটা শাড়িও উপহার দিয়েছেন। যে শাড়িটা পরে আইভী পরের দিন গণসংযোগ করেছেন, এখানে তো আর কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ একটা বড় দল, একটা পরিবার। এখানে বিভেদ থাকতেই পারে। হাতের পাঁচ আঙুল তো সমান হয় না। নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। নৌকাকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে কারো দ্বিমত আছে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের পার্টি ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমাদের দল সেখানে অংশ নিচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি কার্যকারিতা হারিয়েছে। ব্যর্থতা থেকে হতাশা আর এই হতাশা থেকে তারা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।?
এর আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। ‘দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ ঠেকাতেই ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণায় বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে’ মর্মে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেত্রীর কি মনে ছিল না ৭২ ঘণ্টা যে সীমা আছে নির্বাচন কমিশনের, এ সময়ের মধ্যে বাইরের লোকজনের নারায়ণগঞ্জের সীমানা ত্যাগ করতে হবে। আমরা তো সেটা পালন করি, আমরা তো আচরণ বিধি এখন পর্যন্ত মেনে চলছি। তাদের কাছে ৭২ ঘণ্টার খবরই নেই। এটি কি সঠিক কথা বলেছেন তারা? তারা হতাশ হয়ে একটা ছুতো ধরে বলবেই। মনে রাখতে হবে ব্যর্থতা আর হতাশায় বিএনপি এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাড়া ইতিবাচক। রাষ্ট্রপতি সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটি আমরা মেনে নেব।
ইত্তেফাক/এএন