নতুন সাজে সাজবে গোলাপবাগ মাঠ

রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠ ব্যবহার উপযোগী করে খেলাধুলার জন্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য মাঠের ন্যায় এ মাঠটিতে বা এর আশেপাশে কিংবা মাঠের সীমানায় কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

 
মাঠের চারপাশে স্থানীয়দের সকাল-বিকাল হাঁটাহাঁটি ও শুধু খেলার জন্যই মাঠটিকে নতুনরুপে তৈরি করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যেই মাঠটিকে সম্পূর্ণ আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন শিশুদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা হবে। একইসাথে সংস্থাটির সীমানায় থাকা ৩১টি পার্ক ও মাঠের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই মাঠটি পুনঃসংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল। ৪ দশমিক ৫২ একর আয়তনের এ গোলাপবাগ মাঠটিই এলাকাবাসীর শিশু-কিশোর ও যুবকদের জন্য একমাত্র খেলার স্থান।
 
সূত্র জানায়, নতুন মাঠকে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ সিটি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ব্যবহার উপযোগী করার ঘোষণা দেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠে থাকা সকল স্থাপনার ভাঙা সামগ্রী পুরোপুরি সরানোর কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্প অনুযায়ী ব্যবহার উপযোগী করতে কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠের মধ্যে কি কি খেলার ব্যবস্থা থাকবে, কত অংশ সবুজায়ন ও কতটুকু অংশ খেলাধুলার জন্য রাখা হবে তার নকশার কাজ শেষ হবে।
 
জানা গেছে, মাঠটিকে সম্পূর্ণ সবুজায়নের আওতায় আনা হবে। দখলমুক্ত রাখতে মাঠের চারদিকে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকাবাসীর সকাল-বিকাল হাঁটার জন্য মাঠের চারদিকে ‘ওয়াকওয়ে’ তৈরি করা হবে। বর্তমানে মাঠটির কোথাও কোনো সবুজের দেখা না মিললেও মাঠের সব স্থানে ঘাস লাগানো হবে। ফুটবল ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলার উপযোগী করে এ মাঠটিকে গড়ে তোলা হবে।
 
জানা গেছে, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার তৈরির জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ সিটি থেকে তাদের নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রাখার জন্য ইজারা নেয়। এ কারণে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর ফ্লাইওভারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাঠটি থেকে তাদের সব মালামাল সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে।
 
সরেজমিন গোলাপবাগ মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে ব্যবহার করা বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাইট অফিস, কর্মচারীদের থাকার জায়গা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করতে সময় লাগলেও প্রাথমিকভাবে সকল গর্ত ভরাট করে সমান করে দেওয়া হোক।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র সাঈদ খোকনের নির্দেশে গোলাপবাগ মাঠটিকে ওই এলাকায় বসবাসরত শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই মাঠের মধ্যে কি কি খেলার ব্যবস্থা থাকবে, কত অংশ সবুজায়ন ও কতটুকু অংশ খেলাধুলার জন্য রাখা হবে তার নকশার কাজ শেষ হবে। এরপরই নকশা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এরপরই মূল কাজ শুরু করা হবে। এসব কাজের সুফল পেতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত এলাকাবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।

ইত্তেফাক/এএন