গাইবান্ধায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটে দুর্ভোগে যাত্রীরা

গাইবান্ধায় জেলা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম র্দূভোগে পরেছে ব্যবসায়ী ও যাত্রী সাধারণ। বুধবার ভোর থেকে এই ধর্মঘট ডাকা হয়।
 
গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তাদুর রহমান মিঠুর উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে জেলার সকল রুটে এ পরিবহন ধর্মঘট চলছে।
 
বুধবার জেলা শহর সংযুক্ত বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র। যাত্রীদেরকে পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে জেলা শহরে ঢুকতে হচ্ছে।
 
দুর্ভোগের শিকার গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোডের বাসিন্দা জাকিউল আলম বললেন, বুধবার সকালে বগুড়া থেকে গাইবান্ধা শহরে ফিরছিলাম। কোন যানবাহন না থাকায় তিন কি.মি পথ হেটে বাসায় আসতে হয়েছে। একই এলাকার চাকরিজীবী ফিরোজ কবির বললেন, বাস চলছে না। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে শহরমুখে হাঁটছি।
 
এদিকে দেখা যায়, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের শাপলা মিলস এলাকায় সড়কের পাশে অনেক মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ আটকা পড়ে আছে। এতে করে ট্রাক ও পিকআপ চালকরা যেমন বিপাকে পড়েছেন তেমনি টাকা দিয়ে মালামাল কিনেও তা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান শহরের ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া, আব্দুল রউফ ও রবিন চন্দ্র সাহা।
 
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ওই ঘটনায় পিয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ ডিসেম্বর রাতে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৩ জনের নামে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে।
 
প্রসঙ্গত. এর আগে একই কারণে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে জেলায় পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। পরে বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ