টাকার ভিন্নরূপ!

বাজার করতে গাড়ি ভর্তি টাকা

 

একটি মুরগি কিনতে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ বলিভার (ভেনেজুয়েলার মুদ্রা)! রুটি কিনতে প্রয়োজন ৪০ লাখ বলিভার। আর ব্যাগ ভর্তি বাজার করতে চান? তাহলে গাড়ি ভর্তি টাকা নিয়ে যেতে হবে! ভেনেজুয়েলায় গত কয়েকমাস ধরে জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে খাবার এবং ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর প্রধান কারণ দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা। আর তাই খাদ্যের অভাব ও সু-চিকিত্সার অভাবে দেশটির হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ইকুয়েডর, পেরু, চিলিসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভেনেজুয়েলার কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে আপনাদের টিস্যুর পরিবর্তে দেওয়া হবে টাকা! অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভেনেজুয়েলাতে বর্তমানে এক প্যাকেট টিস্যু কিনতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। তাই রেস্টুরেন্ট মালিকরা টিস্যুর বদলে টাকা দিচ্ছেন। অবাক করা হলেও সত্য, ভেনেজুয়েলার প্রতিটি ডাস্টবিনেই এখন টাকা পাওয়া যাচ্ছে। টিস্যু হিসেবে ব্যবহারের পর ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে সেই টাকা। শুধু তাই নয়, টাকা দিয়ে বানানো হচ্ছে ব্যাগ, পুতুল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র।

টাকার বদলে ছাগল-ভেড়া

 

২০১৭ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষকদের টাকার বদলে ছাগল, ভেড়া দেওয়া হচ্ছে। আর এসব ছাগল-ভেড়া সরবরাহ করছে শিক্ষার্থীরাই। কারণ তাদের কাছে স্কুলের বেতন মেটানোর মতো অর্থ নেই। তাই যার কাছে যে পশু বেশি আছে সেটা দিয়ে বেতন পরিশোধ করছে। শুধু গবাদিপশুই নয়, নানা ধরনের সেবাও বেতনের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে জিম্বাবুয়েতে। যেমন যার কাছে ছাগল-ভেড়া নেই সে হয়তো কাজ করে পুষিয়ে দিচ্ছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণ হচ্ছে, জিম্বাবুয়েতে নগদ অর্থের চরম সঙ্কট। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হলে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ২০১৬ সালে ডিসেম্বরে দেশটি চীনের কাছে ৩৫টি হাতি বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছিল। যদিও চীন ও জিম্বাবুয়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে সারাবিশ্বে প্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত কর্মীরা ব্যাপক সমালোচনা করেছিল।