ঢাকার অদূরে মুঘল বিস্ময়!

তাহমিদ আহমেদ শুভ্র

 

যুদ্ধ কিংবা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাজ্যকে সুরক্ষা করতে এক সময় রাজারা নানা দুর্গ গড়ে তুলতো। মুঘল আমলে নির্মিত ঢাকার অদূরেই দাঁড়িয়ে আছে তিনটি দুর্গ, যা ত্রিভুজ জলদুর্গ হিসেবেই পরিচিত। মূলত মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ধারে এসব দুর্গ নির্মাণ করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হাজীগঞ্জ দুর্গ। এটি খিজিরপুর দুর্গ নামেও পরিচিত।

নারায়ণগঞ্জ থেকে চিটাগাং রোড যেতে মাঝপথে নবীগঞ্জ গুদারাঘাটের খানিকটা সামনেই এই দুর্গ বা হাজীগঞ্জ কেল্লাটির অবস্থান। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরে এই কেল্লাটির চারপাশে গড়ে উঠেছিল টিনশেড পাটের গোডাউন। সেসময় নারায়ণগঞ্জ পাট ও বস্ত্রশিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখন সেই নাম-ডাক না থাকলেও কেল্লাটির চারপাশে গোডাউনগুলো এখনো দিব্বি রয়ে গেছে। টিনশেড গোডাউনগুলোর জন্য মোগল আমালের প্রাচীনতম এই স্থাপনাটি অনেকেরই চোখে পড়ে না।

দুর্গটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ মিটার, প্রস্থ ২০০ মিটার। দুর্গের একমাত্র প্রবেশপথ উত্তর দেয়ালে। প্রবেশপথের দু-পাশে খোদাই করা খিলান আছে, যার শীর্ষভাগ পদ্মফুলের অলঙ্করণ শোভিত। দুর্গের বেষ্টন প্রাচীরের দেয়ালে ফোকর বা ছিদ্র আছে, যাতে অস্ত্র তাক করা যায়। চার কোনায় গোলাকার বুরুজ। দুর্গ প্রাচীরের শীর্ষে ওঠার জন্য সিঁড়ি আছে। বুরুজের বহির্গত অংশেও আছে গুলি চালানোর ফোকর। এক কোণে রয়েছে ইটের তৈরি একটি সুউচ্চ চৌকাস্তম্ভ। এছাড়া আছে কামান বসানোর উঁচু বেদি। প্রাচীরের ভেতরভাগের চারদিকে আছে ভিত থেকে ১.২২ মিটার উঁচুতে হাঁটাচলার রাস্তা।

ধারণা করা হয়, সপ্তদশ শতকে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার শাসনামলে এই দুর্গ বা কেল্লা নির্মিত হয়। নরায়ণগঞ্জ জেলার হাজীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে এর অবস্থান। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদের মতে, আনুমানিক ১৬৫০ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার শাসনামলে এই দুর্গ বা কেল্লা নির্মিত হয়।

১৯৫০ সালে দুর্গটিকে প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার করা হয়েছে।

 

ছবি:রাকিব রানা অভ্র