স্বাধীনতার ৪৮ বছর :প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব

স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হলো। ৫০ বছর পূর্ণ হবে ২০২১ সালে। সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে গিয়ে সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন যে আমাদের প্রাপ্তির পাল্লাই ভারী। এ বিষয়ে টেলিফোনে ও ইমেইলে দেওয়া পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো—

আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি অনেক আগে। কিন্তু সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এই দীর্ঘ পরিক্রমায় কতটুকু সার্থক হয়েছে, তা আজ আমাদের জিজ্ঞাসা। হাজারো সমস্যার মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা নিয়ে চলছে নানা বাণিজ্য। সুতরাং স্বাধীনতার ৪৮ বছরে প্রাপ্তি পুরোপুরি তখনই হবে যখন অন্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে দেশ।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

বাংলাদেশের বিগত ৪৮ বছরে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মূল্যায়ন করতে হলে এই ৪৮ কে ৪ ভাগে ভাগ করতে হবে। প্রথমে এক দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে দেশ। অন্ন, বস্ত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এতই বৃদ্ধি পায় যে, ১ সের লবণের দাম হয়ে যায় ৬০ টাকা। তারপর শুরু হয় বেদনাবিধুর ঘটনা ১৯৭৫ সালের। এর পর থেকে স্বৈরশাসন শুরু হয়। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থার প্রাপ্তির পাল্লা অপ্রাপ্তির দিকে ভারী থাকে। বর্তমান ৪ ভাগের শেষাংশের কিছুটা হলেও বাংলাদেশের প্রাপ্তির পাল্লা ভারীর দিকে। যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আছে। এই প্রাপ্তির ভিতরে উল্লেখযোগ্য হলো—খাদ্য শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং বিদ্যুতের ক্ষেত্রে উন্নতি। অপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে সমালোচনার স্থান হচ্ছে সড়কে বিশৃঙ্খলা, খাবার পানির অভাব এবং যে পানি পাওয়া যায় তা ব্যবহারের অযোগ্য। জঙ্গি দমনে কিছুটা সফলতা অর্জন হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণে এখনো ব্যর্থতা রয়ে গেছে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা

স্বাধীনতা যে কোনো দেশের অমূল্য সম্পদ। বর্তমানে আমাদের বাকস্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় কিছুটা বিঘ্নতা ঘটছে। আশা করি হত্যা, গুম, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনে স্বেচ্ছাচারিতা, সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় আনুগত্যের নির্লজ্জতা, নিয়োগ ও বদলিতে সার্বজনীন নিয়ম না মানাসহ ইত্যকার অনিয়মগুলো পর্যায়ক্রমে পরিহার করে আমরা কল্যাণধর্মী দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারব।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম লক্ষ্য। সেটির বাস্তবায়নের কার্যক্রম ক্রমে ক্রমেই এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের ৪৯তম বিজয়ের দিনে আমাদের প্রত্যাশা হোক একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক দেশ, যাতে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি। প্রতিহিংসামূলক কোনো রাজনীতি থাকবে না।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ,জামালপুর

বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। আমাদের স্বাধীনতা যেমন ছিল রক্তপিচ্ছিল, ঠিক তেমনিভাবে গৌরবেরও। দেখতে দেখতে কেটে গেল ঘটনাবহুল ৪৮টি বছর। স্বজনপ্রীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, নীতি-নির্ধারকদের দেশপ্রেমের অভাব কাটিয়ে উঠতে পারলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত হবে।

সাবরিনা সুলতানা মিশু

ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিকস, ঢাবি

আমাদের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি ঘটবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এসব ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি! স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।

মিস বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল

যে উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আমারা বাক স্বাধীনতা, নাগরিক হিসেবে যথাযথ অধিকার ভোগ করতে পারছি না। অজানা ভয়ে সব সময় কুণ্ঠিত হয়ে থাকতে হয়! এটাই কি স্বাধীনতা?

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমরা বুক ফুলিয়ে গর্ব করে বলতে পারি আমরা আজ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি। এককালের শাসক পাকিস্তানের তুলনায় আমাদের শিক্ষা, চিকিত্সা, খাদ্য, বিদ্যুত্, নারীর ক্ষমতায়ন ও মানসিকতার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতী ও উন্নয়ন সাধিত  হয়েছে তা বিশ্বে রোড মডেল হিসাবে স্বীকৃত।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা ও শিক্ষায় বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে যাচ্ছে। বেকার হচ্ছে সাবলম্বী। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত। তাই স্বাধীনতার পর আমাদের প্রাপ্তি যা যা হয়েছে,  তার জন্য আমরা মহান স্বাধীনতার কাছে চিরঋণী।

সুদীপ্ত বালা (অনন)

বি.এসসি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

স্বাধীনতার পরবর্তীকালে তত্কালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করেছিলেন। আজ এই তলাবিহীন ঝুড়ির তলাটা অনেক শক্ত হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের লাইনটি বারবার মনে পড়ে  ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’।

অমিত বণিক

উত্তরা, ঢাকা

ক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তার ভূমিকা, জনবহুল দেশে নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুতা আনয়ন, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এটাই প্রত্যাশা।

সাদিয়া

ঢাকা

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমাদের প্রাপ্তি যে অনেক হয়েছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপলব্ধিতে পাওয়া যায়। তিনি কিছুদিন আগে বললেন, ‘ছোটবেলায় মুরব্বিদের মুখে শুনতাম পূর্ব পাকিস্তান আমাদের জন্য একটি বোঝা। ন্যায়বিচার না পেয়ে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে গেছে।’ ইমরান খান বুঝতে পারছেন ও স্বীকারও করছেন আলাদা হয়ে যাওয়া বর্তমান বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে।

মির্জা আবু হেনা কায়সার                                                   

উত্তরা, ঢাকা

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমাদের প্রাপ্তি অনেক। স্বস্তির বিষয় হচ্ছে দেরিতে হলেও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ধারায়।

জাহাঙ্গীর খান বাবু

মুন্সীগঞ্জ

এ বছর আমরা স্বাধীনতার চার যুগ পূরণ করেছি। বিশেষ করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে উন্নতি লাভ করেছে, তা সময়োচিত। আগামী ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বা সুবর্ণজয়ন্তীতে এসব উন্নয়নের গুণগতমান নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মো. আরিফুর রহমান

দেলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ

স্বাধীনতার চার যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ একটানা সরকারে থাকার কারণে তৃণমূলের জনগণ আজ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করছি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের পূর্বেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ আমরা কতটুকু পেয়েছি? স্বাধীনতার মূল্যায়নই বা কতটুকু হয়েছে? এজন্য বলছি যে, স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ সময়ে কত ত্যাগ, কত কষ্ট, কত প্রাণ বিসর্জন, কেন? অনাবিল, স্বচ্ছ, সুন্দর, রূপসী বাংলায় নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে নীতি-নৈতিকতার সত্ আদর্শের চেতনায় অবারিত ধরণীর আশায়। কিন্তু না। অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার-পরিজন এখনো মানবেতর জীবন যাপন করে। স্বজনপ্রীতি, আর বৈষম্যে ঠাসা এদেশের অনেক দুর্গম অঞ্চলের আদিবাসী, নৃ-গোষ্ঠীসহ অনেকের কাছে স্বাধীনতা পৌঁছেনি। কিছু মানুষের নির্মম দাপটে বিপর্যস্ত স্বাধীন প্রকৃতি।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

দুই বছর পর ৫০ বছর পূর্ণ হবে আমাদের এই স্বাধীনতার বয়স। সূবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে সর্বদা হূদয়ে জাগে একটি নাম—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। আমাদের বিশ্বাস সূবর্ণজয়ন্তীর পূর্বেই ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

স্বাধীনতার প্রকৃত প্রাপ্তি এনে দিয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা  মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে না থাকলেও তার সুযোগ্য কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার প্রাপ্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। সার্বিকভাবে সারাদেশে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশ-বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

স্বাধীনতার সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থে সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সরকারকে আরো তত্পর হতে হবে। তাহলে আমাদের স্বাধীনতার প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তিরগুলো সহসাই দূর হয়ে যাবে।

মো. সিকান্দার আলী

কনকর্ড টাওয়ার, শান্তিনগর, ঢাকা

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমাদের প্রাপ্তি অনেক, আবার কিছু অপ্রাপ্তির বিষয় রয়েছে। প্রাপ্তিতে রয়েছে—ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসর, পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণসহ অন্যান্য। অপ্রাপ্তিতে রয়েছে—যানজট, দুর্ঘটনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতাসহ অন্যান্য। আমাদের প্রত্যাশা আগামী ২ বছরে বিষয়গুলো সমাধান হয়ে যাবে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ