বেকার যুবকদের সামনে নতুন দিগন্ত

দুর্লভ জাতের পাখি চোখের সামনে দেখলে কার না ভালো লাগে। পাখির কিচির মিচির শব্দে পাখিপ্রেমী দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের মন যেন ছুটে গিয়েছিল কোন সবুজ গাছগাছালীতে পাখি ভরা প্রকৃতির কাছে। এমনই আনন্দের মধ্যে রবিবার সন্ধায় শেষ হলো মেহেরপুরের দুই দিনব্যাপী পাখি মেলা।

 
এবারই প্রথম মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হল দুর্লভ প্রজাতির পাখির পসরা বসিয়ে পাখি মেলা। জেলা প্রশাসন, প্রাণীসম্পদ বিভাগ ও পাখি পালক সমিতি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করে। মূলত: পাখিপ্রেমী মানুষকে আনন্দ দিতে এবং দুর্লভ জাতের পাখির সঙ্গে পরিচিত করাতে এমন আয়োজন বললেন আয়োজকরা। দর্শনার্থীরা বললেন তারা এমন আয়োজনে আসতে পেরে এবং নিজ চোখে দুর্লভ জাতের পাখি দেখতে পেরে অনেক খুশী। ক্রেতারা বললেন, তারা শখের পাখি কিনতে পেরে খুশী।
 
মেহেরপুরের স্থানীয় পাখি পালক সমিতির ৪২ জন মেলায় নিজ নিজ স্টল বসিয়ে দুর্লভ জাতের প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখির প্রদর্শন করে পাখি মেলায়। শিশু তানিয়া ও জিসান আহমেদ জানান, এতদিন টেলিভিশন এবং পত্রিকার পাতায় যে সমস্ত পাখির চিত্র দেখেছি, এখন সেই সমস্ত দুর্লভ জাতের পাখি চোখের সামনে দেখতে পেরে খুবই খুশী।
 
হরিরাম পুর গ্রামের সৌখিন পাখি প্রেমিক হারুন অর রশিদ , ষোলমারী গ্রামের সৈয়কত আলী ও পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের রমজান আলী ও খেদমত আলী জানান, দুর্লভ জাতের শখের পাখি নিজে হাতে কিনতে পেরে খুবই খুশী হয়েছি।
 
পাখি পালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রনক আহমেদ  জানান, পাখি মেলায় দর্শনার্থীদের আগমন এবং ব্যবসা খুবই ভাল হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, পাখি পালন নেশা। এখন সেই নেশা সম্ভাবনাময় ব্যবসা খাত হিসাবে রূপ নিয়েছে। তাছাড়া পাখি পালন ও প্রদর্শন সকলের জন্য আনন্দের। পালন করলে শুধু নিজের আনন্দ নয়, এখাত থেকে আয় করাও সম্ভব হবে। পাখি পালন মানুষের মাঝে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
 
আয়োজক ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, মেহেরপুর জেলায় এবারই প্রথম পাখি মেলার এমন আয়োজনে সকলের সাড়া পেয়ে আমরা খুবই খুশী। আগামী বছর থেকে নিয়মিত পাখি মেলার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, পাখি মেলার মাধ্যমে এ জেলাতে পাখি পালন ও বেকার যুবকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উম্মেচিত হবে।
ইত্তেফাক/এএন