সেনসেক্স সূচক কমেছে সাড়ে ছয় শতাংশ

নোট বাতিল ইস্যুতে ভারতের পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন

নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে ভারতের পুঁজিবাজারে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি ভারত সরকার দেশে কালো টাকার বিস্তার রোধে ৫০০ ও এক হাজার রুপির নোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে দেশে খুচরা বিক্রি কমতে থাকে। সাধারণ লেনদেনও কমতে শুরু করে। এমনকি পরিস্থিতি এমনই হয়েছে যে, ভারতের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন নোট বাতিলের ফলে দেশটির জিডিপি প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

 
এদিকে নোট বাতিলের ঘটনায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে পুঁজিবাজারেও। নোট বাতিলের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই সেনসেক্স সূচক ৮০/১০০ পয়েন্ট করে কমছে। বিনিয়োগে আস্থা হারানোর কারণে এই পতন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তথ্যে দেখা গেছে, নভেম্বরের শুরুতে সেনসেক্স সূচক ছিল ২৭ হাজার ৮৭৬ পয়েন্ট। যা কমতে কমতে গত ২৩ ডিসেম্বর ২৬ হাজার ৪০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অর্থাত্ এ সময়ে সূচক কমেছে এক হাজার ৮৩৬ পয়েন্ট। আর শতাংশের হিসাবে তা ছয় দশমিক ৫৮ শতাংশ। এদিকে সেনসেক্স কমার সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজারে আরেক সূচক নিফটিও হাজারের ঘর থেকে নীচে নেমেছে। ভারত সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তা কমেছে প্রায় ছয় শতাংশ। এদিকে সমপ্রতি মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধিও পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আরো কমেছে। গত ২০ দিনে তারা ২৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ছেড়ে দিয়েছে।
 
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধস না-নামলেও বাজারের দুর্বলতা কিন্তু বেশ স্পষ্ট। আসলে এই দুর্বলতা শুধু নোট বাতিলে নয়, সমপ্রতি মার্কিন সুদের হার বাড়ানোর প্রভাবও অনেক শিল্পের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে, আর তা অনুমান করেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে বাজারে। ক্রেতা কমেছে, কমছে লেনদেনের পরিমাণ। নোট বাতিলের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শিল্পের আরো ছয়  মাস সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা। অর্থাত্ আগামী ২টি ত্রৈমাসিক কোম্পানির ফলাফল বাজারকে তেমন শক্তি জোগাতে পারবে না।
 
এসএমসি গ্লোবাল সিকিউরিটিজের গবেষণা বিভাগের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈরভ জৈন বলেন, বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের আপাতত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নোট বাতিলের কারণে ডিসেম্বর প্রান্তিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ঘানি আগামী অর্থবছরেও টানতে হতে পারে। মডার্ন শেয়ার ও স্টক ব্রোকার্সের অনিল ম্যাঙ্ঘানি বলেন, নোট বাতিলের নেতিবাচক প্রভাব আরো দীর্ঘ হতে পারে। নোট বাতিলের কোর্স কবে শেষ হচ্ছে- বিনিয়োগকারীরা মূলত সে ঘোষণার অপেক্ষায় বসে আছে। এনডিটিভির এক সংবাদে এসব তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএন