মালিবাগে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর মালিবাগে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই নিহত ব্যবসায়ীর নাম সাত্তার মণ্ডল (৪০)।
 
সোমবার সকালে দুর্বৃত্তরা তার বাসায় গিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে বেলা দেড়টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বাসা থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবদুস সাত্তার কাপড় ও সুতার ব্যবসায়ী। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে। তিনি মালিবাগের পাবনা কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সম্প্রতি তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। তিনি একাই ওই বাসায় ছিলেন।
 
জানা গেছে, সাত্তার মণ্ডল মালিবাগের পাবনা গলির ২২২/১০ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকেন। সাত্তার মণ্ডলের পরিবার। সাত্তার মণ্ডলের ছেলে শাওনের বন্ধু ফুহাদ হাসপাতালে সাংবাদিকের জানান, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শাওন ফোন করে তাদের বাসায় যেতে বলে। এরপর তিনি ওই বাসায় গিয়ে দেখেন সাত্তার মণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় বাসার মেঝেতে পড়ে আছে। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের কোপের ক্ষতগুলো রক্তজমাট বেধে রয়েছে। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা বেলা দেড়টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাওনের বরাত দিয়ে ফুহাদ বলেন, বাড়ির মালিক দুপুরে শাওনকে বিষয়টি ফোন করে জানান। পরে শাওন আমাকে ফোন করে তাদের বাসায় যেতে বলে।
 
এদিকে নিহত আবদুস সাত্তারের প্রতিবেশি মেহেদী হাসান জানান, সকালে আবদুস সাত্তারের ছেলে মোবাইল ফোনে তার বাবাকে পাচ্ছেনা বলে তাকে জানায়। পরে ওই বাসায় গিয়ে আবদুস সাত্তারের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবদুস সাত্তারকে দুপুরের সোয়া ১টার দিকে ঢামেক এ নিয়ে যাওয়া হয়।
 
শাহজানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে ভারি কোন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ওই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ এ ব্যপারটা খতিয়ে দেখছে। এ কারনে পুলিশের গোয়েন্দাদের মাঠে নামানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের মোটিভ তদন্তের পর জানা যাবে। তিনি আরো বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

ইত্তেফাক/এএম।