রাজশাহীতে দুই প্রবীণের ভোটের লড়াই

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ঘাম ঝরানো প্রচারণা শেষ হয়েছে সোমবার দিবাগত রাত ১২টায়।
 
এখন অপেক্ষা ভোটগ্রহণের। বুধবার রাজশাহীর ১৫টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। এ দিন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনসহ জেলার সকল পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ হাজার ১৭১ জনপ্রতিনিধি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
 
এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে রাজশাহীতে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রবীণের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এরা হলেন, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু (তালগাছ) এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার (আনারস)। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৩২ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে থেকে সাধারণ সদস্য পদের একজন প্রার্থী গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
 
ভোটে সাধারণ সদস্য পদ নিয়ে ১৫ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পদ নিয়ে ৫ জন যাবেন জেলা পরিষদে। তবে এরই মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের একজন এবং সাধারণ সদস্য পদের চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সদস্য পদের আরও একজনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় আরেকজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।
 
রিটার্নিং অফিসার ও ডিসি কাজী আশরাফ উদ্দীন জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। ভোট সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে বলেই আশা করেন তিনি।
 
তিনি, প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে মোট ১৫টি কেন্দ্রের ৩০টি বুথে এই ভোট গ্রহণ করা হবে। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৮৯৬ জন। আর নারী ২৭৫ মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ১৭১ জন।
 
সহকারী রিটার্নিং অফিসার শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), দুই জন কনস্টেবল ও আনসার বাহিনীর একজন সশস্ত্র পিসি দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকবেন আনসার-ভিডিপির ৭ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী সদস্য। ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব অনুসারে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধিও করা হতে পারে।
 
এছাড়া প্রতি ইউনিয়নের জন্য পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত একটি একটি মোবাইল টিম, প্রতি তিন ইউনিয়নের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের দুটি মোবাইল টিম এবং একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে। চাহিদামতে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি সদস্যরাও। আর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে মাঠে থাকবেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
 
ইত্তেফাক/এসএস