মির্জাপুরে খাল ও জলাশয় দখলের অভিযোগ

মির্জাপুরে খাল ও জলাশয় দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।  পৌরসভা ও উপজেলা সদরের আশ-পাশের বিভিন্ন খাল, পুকুর ও জলাশয় দখলের এ মহোত্সব চলছে।

 
মঙ্গলবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খাল, পুকুর ও জলাশয় দখল করে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে যাচ্ছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন অচিরেই ওগুলো উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় অন্তত এক হাজার ৫’শ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। এই জমির মধ্যে রয়েছে, নদী, খাল, পুকুর, জলাশয় ও উন্মুক্ত জায়গা। এই বিপুল সংখ্যক খাস জমির মধ্যে কিছু ভূমিহীন, মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্রদের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। বাকি খাস জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আস্তে আস্তে এলাকার এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল দখল করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব জমির মধ্যে রয়েছে, সরকারি খাল, নদী, পুকুর, জলাশয় ও হাট-বাজারের পাশে জমি। প্রভাবশালী মহল ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অধিকাংশ জমি দখল করেছে। এতে শহরের দুই পাশের নদী ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পৌরসভার পয়নিষ্কাশন হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা ও বাসাবাড়ির পানি নদী ও খালে বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পৌরবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। পৌরসভার বাইরে খাস জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম আহমেদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা ইয়াসমিন বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় এক হাজার ৫’শ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। এরমধ্যে কিছু জমি সরকারি নিয়ম মোতাবেক দরিদ্র কৃষক, মুক্তিযোদ্ধা ও ভূমিহীনদের লিজ দেওয়া হয়েছে। মির্জাপুর শহরের আশ-পাশের খাল ও জলাশয় দখলের অভিযোগ স্বীকার করে তারা বলেন, কিছুদিনের মধ্যে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বারই খালও দখল হয়ে জলাশয় উদ্ধারের জন্য উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

ইত্তেফাক/এএন