১. নায়ক রাজের মৃত্যু গুজব
বছরজুড়ে নায়ক রাজের অসুস্থতাকে নিয়ে চলেছে নানা গুঞ্জন। নায়ক রাজের প্রতি সারাদেশের কোটি ভক্তের কৌতুহলই প্রমাণ করে তার প্রতি গভীর ভালোবাসা। তবে বিভিন্ন সময় একাধিক মিডিয়া তার মৃত্যু গুজব ছাপানোর কারণে নায়ক রাজের পরিবার বিব্রত হয়। একপর্যায়ে তার সন্তানরা বাবার শারীরিক অবস্থার আপডেট জানিয়েছেন নিয়মিত।
২. পুরস্কার ফেরত
বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ছবি ‘বৃহন্নলা’। যে ছবিটি প্রথমে সেরা ছবির পুরস্কার পেলেও পরবর্তীতে গল্প চুরির অভিযোগে সেই পুরস্কার প্রত্যাহার করা হয়। বছরজুড়ে এ নিয়ে বিশিষ্টজনদের একাধিক মতামতও প্রকাশ পায় একাধিক মিডিয়ায়।
৩. সঙ্গীতে হাওয়া বদল
২০১৬ সাল ছিল বাংলা মিউজিকে সুরের ধারাবদলের বছর। যার অন্যতম কৃতিত্ব গান বাংলার। উইন্ড অব চেঞ্জ নামের একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত সঙ্গীত পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপসের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বিশ্বের প্রখ্যাত মিউজিশিয়ানদের সাথে দেশীয় মেধাবী মিউজিশিয়ানদের মেলবন্ধন এক নতুন সুরের দোত্যনা তৈরি করে। যা নিয়ে প্রশংসা করেন এ আর রহমান থেকে শুরু করে বিশ্বের একাধিক মিউজিশিয়ান। বছরজুড়ে মাত্র দুটি সিজনেই ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ তরুণদের বাংলা গান শোনার ক্ষেত্রে রুচি বদল ঘটায়। একইসাথে বাংলা গানের ফিউশনেও নতুন মাত্রা যোগ হয়।
৪. নীল মনিহারের কষ্ট
দেশের কিংবদন্তী সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী লাকী আখন্দ এ বছর হাসপাতালেই কাটালেন। দুরারোগ্য ক্যান্সারের খবরেই কাটলো তার এ বছর। একাধিক সংস্থার সহযোগিতায় শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। তবে প্রিয় সুরকারের এমন দুরারোগ্য রোগে ভোগার মন খারাপের সংবাদেই কাটে পুরোবছর। বছরের শেষভাগে মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা হয় লাকী আখন্দের এই চিকিত্সার জের ধরেই। যা মূলত সকল শিল্পীর যেকোনো সঙ্কটে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত।
৫. জিতলো বাজি
ফাইট ফ্যান্টাসির ছবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আলোচনা-ব্যবসায় শীর্ষে আসে ‘আয়নাবাজি’ ছবিটি। ছবিটি এযাবত্ লাভ করেছে ৩ কোটির ওপরে। মনপুরার পর এই ছবির এই ব্যাপক সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশি দর্শক কিছু নির্মল আনন্দ পেতে সাধারণ একটি গল্প, নিজের দেশের অভিনেতার মুন্সিয়ানায় মুগ্ধ থাকতে চায়। ছবিটির সাফল্যে ভয় পেয়ে অনেকেই তাদের মুভি রিলিজের তারিখ পিছিয়েছে।
৬. বিচ্ছেদ
শিল্পী সমিতি কিংবা চলচ্চিত্র পর্দা। দুটিতেই একেবারে হরিহর আত্মা ছিলেন দেশের শীর্ষ চলচ্চিত্র তারকা শাকিব খান ও মিশা সওদাগর। কিন্তু যৌথ চলচ্চিত্র প্রযোজনার জের ধরে মিশা সওদাগর একাধিক অনুষ্ঠান ও টকশোতে তার জুটি নায়ক শাকিবের এই নীতির সমালোচনা করেন। যার ফলে বছরের শেষভাগে জায়েদ খানের সাথে শিল্পী সমিতি নির্বাচনে নতুন প্যানেল ঘোষণা ও ক্যাম্পেইন শুরু করেন মিশা সওদাগর। তাই বছরটি ছিল তাদের চিরবন্ধনের বিচ্ছেদের বছর।
৭. মাইলস-ফসিলস তর্ক
বছরের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতার একটি কনসার্টকে কেন্দ্র করে মাইলসের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে কলকাতার ব্যান্ড ফসিলস। কারণ হিসেবে মাইলস সদস্যদের কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসকে তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে মিডিয়ায় দীর্ঘদিন দু-পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ হয় দুই বাংলার মিডিয়ায়।
৮. ডুব তর্ক
বিতর্কটি শুরু হয় কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবরে। দেশের গুণী নির্মাতা মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ চলচ্চিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক বলে খবর ছাপে পত্রিকাটি। সঙ্গত কারণে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মেহের আফরোজ শাওন। পরবর্তীতে ফারুকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে কোনো বায়োপিক করেননি বলে ঘোষণা দিলে সেই আলোচনার উত্তাপ কমে। তবে ছবিটি এ বছর রিলিজ দেওয়া হয়নি বলে আলোচনার জের হয়তো ২০১৭-তেও গড়াবে।
৯. আন্দোলনের মাঠে
বছরের শেষভাগে ছোটপর্দার একাধিক সংগঠন বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করে ছিল আলোচনায়। এমনকি সম্মিলিত সংগঠন বিদেশি সিরিয়াল বন্ধের দাবিতে টিভি চ্যানেল ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করে। দুটি নতুন সংগঠনও তৈরি হয়। এফটিপিও নামের এই সংগঠনটি পরবর্তীতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ১৯ দিন আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে।
১০. নিখাঁজ রহস্যে
আগের বছরগুলোতে যে নায়িকা শীর্ষস্থানে ছিলেন, ঠিক এ বছর তাকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। সারাবছর তাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস কোথায়, সেই খবরেই মিডিয়া ব্যস্ত ছিল। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করে যে, অপু বিশ্বাস গুলশানের নিকেতনেই অবস্থান করছেন। এদিকে তার এই হঠাত্ অন্তর্ধানের কারণ হিসেবে কিছুই বলতে পারেননি বা চাননি তার কাছের মানুষ, নির্মাতা, সহকর্মীরা।
ইত্তেফাক/এমএআর