বাংলাদেশি-কানাডিয়ান নির্মাতা নাদিম ইকবালের নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘মাদার টাং’ এবার অর্জন করলো হলিউডের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনডেপেন্ডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘ফেমাস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড’। সেই সাথে ভিন্নধর্মী বিষয়বস্তু এবং নির্মাণশৈলীর মুন্সিয়ানার জন্য ২০১৬ সালের সেরা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ‘মাদার টাং’।
গত ১০ ডিসেম্বর হলিউডে আয়োজিত পঞ্চান্ন হাজার দর্শক এবং দেড়শ’ চলচ্চিত্র নির্মাতা অংশ নেয়া এই বিশাল উৎসবে নাদিম তাঁর প্রথম ছবিতে তুলে ধরেন মাত্র ১১ মিনিটের হৃদয়ে নাড়িয়ে দেয়া প্রমাণ্যচিত্র ‘মাদার টাং’।
কাহিনীতে দেখা যাবে, প্রবাসী বাংলাদেশি মিষ্টি নামের মিষ্টি মেয়েটি ধীরে ধীরে কানাডিয়ান ইংরেজি সংস্কৃতির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে। বাংলা সংস্কৃতির মধ্যে তার শেকড় আর বিকাশ ও বেড়ে উঠা অন্য এক ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে। এই দ্রবীভূত মাল্টিকালচারের মধ্যে তৈরি হয় গভীর এক অন্তর্দ্বন্দ্ব।
অভিনয় করেছেন কবি আসাদ চৌধুরী এবং তাঁর নাতনি রাইদা ফাইরোজ মিষ্টি। বায়ান্নের ভাষা আদোলনের বাংলা ভাষার খ্যাতিমান এক কবি যাঁর লালিত স্বপ্ন বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতিকে পরম সৌন্দর্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, নানা গভীর ভালোবাসায় তাঁর নাতি-নাতনীদের নিয়ে বসেন তাঁর লেখাগুলো শুনানোর জন্য।
তিনি জানাতে চান তাদের বাংলা ভাষার ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস। কিন্তু দেখা যায়, খুব সহজ বাংলা শব্দ তাদের কাছে অজানা এমনকি ইতিহাসের গল্পের প্রতিও তাদের গভীর মনোযোগের অভাব।
ইতোমধ্যে ‘মাদার টাং’ আমেরিকা, কানাডা, ড্যানমার্ক, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, রুমানিয়া, ম্যাক্সিকো পুর্তোগাল থেকে চারটি পুরষ্কার এবং ২৪টি অন্যান্য সন্মাননা অর্জন করে সকলের দৃষ্টি কেড়ছে। আগামী ১৭-১৯ জানুয়ারিতে আবার আমন্ত্রিত হয়েছে অ্যারিজোনায়।
ইত্তেফাক/এমএআর