লিবিয়ার সমুদ্র সৈকতে ভেসে এল ১১ অভিবাসীর লাশ

আবারো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি জমাতে গিয়ে মারা গেল ১১ অভিবাসন প্রত্যাশী। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির আশপাশের সৈকতে ভেসে আসে এসব মৃতদেহ। রেড ক্রিসেন্ট বুধবার এ খবর জানায়।
 
রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ আল-ফালাহ জানান, লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্টের ত্রিপোলি শাখার কয়েকটি টিম ত্রিপোলির আশপাশের সৈকতে ভেসে আসা ১১টি লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার ত্রিপোলির কয়েকটি সৈকতে লাশ ভেসে এসেছে এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। পরে সেখান থেকে হতভাগ্য ওই অভিবাসন প্রত্যাশীদের লাশ উদ্ধার করা হয়। লিবীয় রেড ক্রিসেন্ট তাদের ফেসবুক পাতায় জানায়, ত্রিপোলির পার্শ্ববর্তী হাই আল আন্দালুস সৈকত ও রাজধানী থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অপর একটি এলাকা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। 
 
সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া হয়ে সমুদ্র পথে মানবপাচারের হার বেড়ে গেছে। চোরাকারবারীরা এ পথকে তাদের সহজ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে। ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুহাম্মদ গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জনগণের রোষ ব্যাপক আকার ধারণ করলে এ পথকে তারা সহজতম পথ হিসাবে বেছে নেয়। ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপ পাড়ি জমাতে এই চক্রটি অনেক আগে থেকেই সক্রিয় ছিল। তবে শুধু যে চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্যর কারণে এসব ঘটনা ঘটছে তা নয়, অনেকে নিজস্ব উদ্যোগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে যাচ্ছে। 
 
আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর শেষ পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু। অনেকে পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা থেকে ডিঙ্গি নৌকায় করে ইটালির উদ্দেশে রওনা হয়। ভাগ্য যদি সুপ্রসন্ন হয় তাহলে তাদের পূরণ হয় কাঙ্ক্ষিত বাসনা অন্যথায় হতে হয় সলিল সমাধি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মানুষের পরিচয় অজ্ঞাত রয়ে যায়। কারণ সাগরেই তাদের সলিল সমাধি হয়ে যায়। জাতিসংঘের হিসাব মতে, ভূমধ্যসাগর দিয়ে এভাবে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে চলতি বছরে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। -গার্ডিয়ান।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ