ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ঢাকার ৪ নদী

ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরীসহ ঢাকার চার নদী। প্রতিদিনই নতুন করে একের পর এক দূষণের শিকার হচ্ছে এই নদীগুলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প কারখানা স্থানান্তরের পূর্বঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনসম্মুখে সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহিতার দাবি করেছেন পরিবেশবিদরা। সেইসঙ্গে তারা বলছেন-ট্যানারি স্থানান্তরে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
 
শনিবার রাজধানীর ডিআরইউ গোলটেবিল মিলনায়তনে ট্যানারি স্থানান্তরে ব্যর্থ হলো সরকারি ডেডলাইন ২০১৬! বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীসহ একাধিক নদী- করণীয় কি? শীর্ষক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন বক্তারা। বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার নামে একটি সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
 
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করার ডেডলাইন দিয়েছিল সরকার। তা না হলে ট্যানারিগুলো বন্ধ করে দেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। একইসঙ্গে সব কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ৩৪ ট্যানারি স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ট্যানারিগুলো এখনও রয়ে গেছে আগের জায়গায়। এমতাবস্থায় সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন পরিবেশবিদরা।
 
বাপা ও ‘বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার’ এর যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, বুড়িগঙ্গার ৬০ শতাংশ দূষণ হচ্ছে শিল্প কারখানার কারণে। হাজারিবাগে দুই শতাধিক ট্যানারি শিল্প কারখানা রয়েছে। ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের কারণে নদী ৩০ শতাংশ দূষণ হচ্ছে। ১০ শতাংশ দূষণ হচ্ছে গৃহস্থালির কারণে। শ্যামপুরের ৪২ ডাইং কারখানার বর্জ্য যাওয়ার লাইন সরাসরি বুড়িগঙ্গায়। সব মিলে প্রতিদিন ২ কোটি ১৬ লাখ লিটার বিষাক্ত বর্জ্য যাচ্ছে বুড়িগঙ্গায়।
 
তিনি বলেন, ২২০টি ট্যানারির কারখানার সরাসরি বর্জ্য ফেলছে বুড়িগঙ্গায়। পরিবেশ দূষণ বন্ধ ও বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে আদালত বিভিন্ন সময় নির্দেশনা দিলেও তা পালন হয়নি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সে কমিটিতে নেই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি।
 
শরীফ জামিল আরও বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ট্যানারি স্থানান্তরের ডেডলাইন ছিল ৩১ ডিসেম্বর। এর মধ্যে মাত্র ৩৪টি কারখানার আংশিক স্থানান্তর করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে বাকি সব কারখানা স্থানান্তর অকল্পনীয়।এমতাবস্থায় সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সরকার আদৌ নিজেদের করা ঘোষণা ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কি না তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানাচ্ছি। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই