মাত্র দুই শতাংশ সুদের ইএসএফ ঋণের জন্য আবেদনকারীর প্রকল্প প্রস্তাবনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কম সুদের এ ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে উদ্যোক্তার সঙ্গে আলাদা চুক্তি করতে বলা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।
বিনা সুদের ইইএফ তহবিলের নাম বদল করে গত আগস্ট্রে এন্টারপ্রেনারশিপ সাপোর্ট ফান্ড (ইসিএফ) করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় একজন উদ্যোক্তা মাত্র ২ শতাংশ সুদে মোট প্রকল্প ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। এর আগে বিনা সুদের ইইএফ থেকে অর্থ নিয়ে প্রকল্প না করে বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকায় তা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সর্বশেষ গত বছরের ১২ আগস্ট থেকে নতুন আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আবেদন মূল্যায়নের কাজে ধীরগতির কারণে সব যোগ্যতা থাকার পরও অর্থ ছাড় হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইএসএফ সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ। ইএসএফের আওতায় স্থাপিত প্রকল্প প্রস্তাবনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। ঋণ পাওয়ার আগে প্রকল্প বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের ভেটিংকৃত ‘ডিড অব এগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী আইসিবির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। ঋণের অর্থ আদায় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ইএসএফ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাদা চুক্তি করতে হবে। এখান থেকে মঞ্জুরি করা প্রতিটি প্রকল্পের জন্য আলাদা ছায়ানথি সংরক্ষণ করতে হবে। উদ্যোক্তার বিষয়ে আলাদা কোড ব্যবহার করে সিআইবিতে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গতকালের এ নির্দেশনার মাধ্যমে বিদ্যমান নীতিমালার দু’টি উপ-ধারায় আংশিক সংশোধনী আনা হয়েছে। খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এখন থেকে মৌজা রেট বা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে ঋণ দিতে বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে আগের মতোই মৌজা রেট বিবেচনায় নিয়ে ঋণ দেওয়া যাবে। এছাড়া প্রকল্প মূল্যায়নের ফি বাবদ এক লাখ টাকা এবং প্রযোজ্য ভ্যাট উদ্যোক্তার মূলধন বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে বলা হয়েছে।