মেঘে মেঘে বেলা কেটে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চার বছর কাটিয়ে দিয়েছেন সৌম্য সরকারও। পঞ্চম বছরে পা দেয়া এই বাঁহাতি ওপেনার বাংলাদেশের হয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপ, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছেন। টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে রয়েছে।
আবির্ভাবে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে নজর কাড়লেও সৌম্যর ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব সবচেয়ে বড় বিষয়। দুই মাস পরই আরেকটি বিশ্বকাপ। চার বছর আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে একেবারে নতুন খেলোয়াড় ছিলেন সৌম্য। এবার বিশ্বকাপে খেলার আগে তার অভিজ্ঞতার ভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ। টপঅর্ডারে তামিম ইকবালের সঙ্গে তার ও লিটন দাসের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত।
গতকাল বাঁহাতি এই ওপেনার জানিয়েছেন, এবার বিশ্বকাপে কিছুটা চাপও থাকবে তার উপর। তবে অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার সাহসটা ধরে রেখে এবার পারফর্ম করতে মুখিয়ে সৌম্য।
গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে দুই বিশ্বকাপে নিজের অবস্থানের তুলনা করতে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী এই ওপেনার বলেছেন, ‘আসলে আগেরটাতে পুরোই নতুন ছিলাম। আর এবার যদি সুযোগ পাই তাহলে হয়তো বা এবার পরিকল্পনা একটু ভিন্ন থাকবে। ঐ সময় যেভাবে জুনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে মুক্ত মনে খেলেছি এখন হয়তো অতটা মুক্ত থাকবো না, একটু চাপ তো থাকবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে ওখানে গিয়ে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। আগে যে বিশ্বকাপ খেলেছি, বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছি- ওখানে যে সাহস নিয়ে খেলেছি, সেটা ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।’
বিশ্বকাপ নিয়ে কম বেশি পরিকল্পনা করছেন সৌম্যও। তিনি জোর দিচ্ছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার দিকে। গতকাল বলেছেন, ‘আমি প্ল্যান করছি খেলার যে পরিস্থিতি এবং গেম প্ল্যান সেগুলো নিয়ে বেশি কাজ করছি। এখানে (প্রিমিয়ার লিগ) তো খেলছি অবশ্যই, তবে তার মধ্যেও চিন্তা করছি যে এই পরিস্থিতিতে ওখানে খেললে কেমন হবে বা এখন আমি যদি আউট হয়ে যাই তাহলে দল কেমন চাপে পড়বে। সুতরাং এই চিন্তাগুলো করে আরকি সবকিছু মিলিয়ে খেলা।’
সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগে ভালো শুরু করেও তা ধরে রাখতে পারছেন না সৌম্য। শেষ তিন ম্যাচে ৩৩, ৩৬, ৪৩ রান করেছেন তিনি। এই জায়গা থেকে বের হওয়ার চিন্তাই করছেন এই তরুণ।
আগামী মাসেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হবে। ২-১টি অবস্থান ছাড়া দলটাও প্রায় চূড়ান্ত। গত মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি ধারণা দিয়েছিলেন বিশ্বকাপ দল নিয়ে। সেখানে পেস আক্রমণে চোটাক্রান্ত তাসকিন আহমেদের নামও বলেছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। নতুন খবর হলো, নির্বাচক প্যানেলে কেউ কেউ এই ডানহাতি পেসারকে বিশ্বকাপ দলে রাখতে রাজি নন। আবার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতে নেয়া, ইমরুল কায়েসকে বাদ দেয়ার চিন্তাতেও অনেক মতামত এসেছে। এটা এখন স্পষ্ট অনেক আলাপ-আলোচনার পর শেষের কয়েকটি নাম চূড়ান্ত হবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ১৬ বা ১৭ সদস্যের দল নিয়ে আয়ারল্যান্ড যাবে বাংলাদেশ দল। গুঞ্জন আছে, একজন তরুণ লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদিকে আয়ারল্যান্ডে নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়।