স্বাধীনতার এত বছর পরও বীরাঙ্গনার খেতাব মেলেনি মির্জাপুর উপজেলার ববিজান বেগমের। ববিজান বেগম জানান, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের গ্রামে ক্যাম্প স্থাপন করে। একদিন পাক-হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বিএসসিসহ আরো কয়েকজনের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে গ্রামের নিরীহ নারীদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পাকবাহিনী এবং এদেশীয় কিছু রাজাকার-আলবদর। ওই নারীদের মধ্যে আমিও ছিলাম। সেদিনের নির্মমতার কথা মনে হলে এখনও শরীর শিউরে ওঠে। এই দেশ কি দিয়েছে আমাকে? সরকারি জমিতে থাকি তাও কেড়ে নেওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এমনকি চেষ্টা চলছে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার। এটি গেলে কোথায় দাঁড়ামু, কি করমু আমি? এ কথা বলে তিনি বুক চাপড়ে কেঁদে ফেলেন। ভারাক্রান্ত মনে বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের নানা স্মৃতিচারণ করেন ববিজান বেগম।
ইত্তেফাক/এএন।