ঘড়ির কাঁটায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা হাটের দিন। পিরোজপুরের কাউখালীর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে তখন চলছিল আবুল কালাম আজাদের ভ্রাম্যমাণ মিনি সার্কাস প্রদর্শনী।
টানা এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সার্কাস উপভোগ করছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ’ মানুষ। প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে অনেকে খুশি হয়ে কালামের হাতে ৫-১০ টাকা করে তুলে দেন। এ সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলে কালাম জানান, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় তার বাড়ি। ছোট বেলা থেকে তিনি দেশের নামকরা সার্কাস দলের সাথে থেকে সার্কাস প্রদর্শন করতেন। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় এ পেশায় দীর্ঘদিন নিয়োজিত ছিলেন। হঠাত্ করে দেশে সার্কাস প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েন কালাম। সংসারের চাকা সচল রাখতে কাজের খোঁজে মাঠে নামেন কালাম। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোথাও কোনো কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে অনেক কষ্টে নিজ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ মিনি সার্কাসের দলটি গড়ে তোলেন তিনি। কয়েক বছর ধরে একটি ইঞ্জিনচালিত বড় ভ্যানে করে সারা দেশ ঘুরে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, ফেরি-লঞ্চঘাটসহ হাট-বাজারে সার্কাস দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে তার দলটি। তিনি বলেন, খেলার মাধ্যমে মানুষের মনে আনন্দ দিয়ে আমি নিজেও অনেক আনন্দ পাই।
ইত্তেফাক/এএন।