দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে জাতীয় সংসদের গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে সুন্দরগঞ্জে হরতাল চলছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগসহ বিছিন্নভাবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন এ হরতালের ডাক দিয়েছে।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে লালমনিরহাট-সান্তাহার রেল রুটের সান্তাহারগামী ট্রেনটি বামনডাঙ্গা রেল স্টেশনে অবরোধ করে আটকে রেখেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুরো জেলা জুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাইবান্ধা রেল স্টেশনের মাস্টার আবুল কাসেম জানান, ট্রেনটি ওই স্টেশন থেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক নাদিম মোস্তফা বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে সাড়া দিয়েছে।’
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অনিমেষ মজুমদার জানান, এমপি লিটনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তার বুকে তিনটি ও ডান হাতে দুইটি গুলি করা হয়েছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রাত থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ সন্দেহজনক ১০ জনকে আটক করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা পৌণে ছয়টার দিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে দৃর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ