প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেছেন, আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি তা বদলাতে হবে। টেকনোলজির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সব বাধা দূর করা সম্ভব। রবিবার আগারগাঁও বিসিসি ভবনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটির (সিএসআইডি) উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি মেলা-২০১৭’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। পুতুল বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কী সমস্যা তা তার কাছ থেকেই শুনতে হবে এবং তাদের অসুবিধা, মানবাধিকার ও স্বপ্ন পূরণের কথা শুনলেই আমাদের দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, আজ বছরের প্রথম দিনটা প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে অন্যভাবে শুরু হলো। আইসিটি সেক্টরের সব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো প্রতিবন্ধী বান্ধব করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে সাড়ে তিন হাজার প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করা হবে এবং আইটি সেক্টর ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ২৮টি সেন্টারে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেড় কোটি প্রতিবন্ধী মানুষকে সঙ্গে নিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের সুরক্ষা রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবন্ধী মো. শাহজাহান বলেন, আমরা কোটায় চাকরি চাই না, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি চাই। কারণ চাকরি আমার অধিকার। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে প্রতিবন্ধীদের ১ শতাংশ চাকরি দেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আমেনা ফাহমিনা খাতুন বলেন, আমি এর আগের মেলায় এসে চাকরি পেয়েছি। এখন এ চাকরিটা আমি করছি যা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। জব ফেয়ারে না এলে হয়তো চাকরি হতো না। মতিউর ইসলাম বলেন, আমি প্রতিবন্ধী হয়েও এখন খাদ্য বিভাগে চাকরি করছি। চাকরি জীবনে আমাদের ওপর নেতিবাচক মনোভাব ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। সিএসআইডির কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোনো একদিকে কমতি থাকলেও অন্যদিকে ক্ষমতা বেড়ে যায় যা তাদের সাধারণ কর্মীদের চেয়ে বেশি দক্ষতা দেখায়।
নিজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হয়েও নুসরাত জাহান প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, তাহলেই সব বাধা দূর হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/আরএ