এমপি লিটন হত্যায় সন্দেহ জামায়াত-শিবিরের দিকেই : মন্ত্রিসভায় আলোচনা

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার জন্য সন্দেহ জামায়াত-শিবিরের দিকেই। এমন সন্দেহ প্রকাশ করে সোমবার মন্ত্রিসভায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লিটন খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ইতিপূর্বে লিটনের গুলিতে শিশু সৌরভ আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিসভায় বলা হয়, সৌরভ দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছিল সে সময়ে তাকে রক্ষা করতেই লিটন গুলি চালায় তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সৌরভের শরীরে বিদ্ধ হয়।

প্রসঙ্গত. সৌরভ আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয় এবং সে মামলায় লিটন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্ধারিত আলোচনার বাইরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি লিটন হত্যা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, লিটন বরাবরই জামায়াত-শিবিরের লক্ষ্যবস্তুতে ছিলেন। কিন্তু তিনি সাহসী ও জনপ্রিয় হওয়ার কারণে নিজ নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে চলেছেন।

বিদ্যমান আইনে প্রযোজ্য জেল-জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া হাউজিং বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিটিউ আইন এবং বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইনের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইনটি সংসদে পাস হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকায় মহাপরিকল্পনা না মেনে জমি ব্যবহার করলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান আমলের মার্শাল ল’ আইন দিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চলছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মার্শাল ল’ আমলের আইনগুলোকে পরিমার্জন করে বাংলা করা হচ্ছে।

রাজশাহী ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আধুনিক আইন অনুযায়ী গঠিত হয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, ওই আইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

এই আইনে কর্তৃপক্ষ স্থাপিত দেয়াল, সীমানা খুঁটি বা বাতি অপসারণ করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে, আগে যা ছিল ২০০ টাকা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির পরও কোনো স্থাপনা বা স্থাপনার বিশেষ অংশ না সরালে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।


ইত্তেফাক/এমআই