ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

 
রাজধানীর গুলশানে ডিসিসি মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে দোকান পুড়ে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগুন লাগানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই বিশাল ক্ষতি কীভাবে সামলে উঠবেন তা নিয়ে ভাবতেও পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
 
‘শাহেদ এন্টারপ্রাইজের’ মালিক শাহেদ বলেন, আমার ফার্নিচারের দোকান। ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। ছয় লাখ টাকার মতো পুড়ে ছাই। কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করতে পেরেছি। ‘কলন অ্যান্ড কটন রেডিমেড গার্মেন্টসে’র ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন, তিন কোটি টাকার বিদেশি পণ্য ছিল। এ ছাড়া ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য ১২ লাখ টাকা ছিল। সব পুড়ে গেছে। কেউ আগুন লাগিয়েছে। অন্যথায় এত দ্রুত সব পুড়ে যেত না। ‘সাইকা ইন্টারন্যাশনালের’ চারটি দোকান ছিল। ছয় কোটি টাকার চকোলেট এবং শিশুদের দুধ ছিল। সবই থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা। 
 
মালিক সুজন বলেন, গান পাাউডার দিয়ে কেউ আগুন লাগিয়ে না দিলে এমন একটা বিল্ডিং অল্প সময়ের মধ্যে ধসে পড়তো না। আনোয়ার হোসেন নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, তার বাবা ১৯৭২ সালে এই মার্কেটে ব্যবসা শুরু করেন। তাদের তিনটি খাবারের দোকান ছিল, সবগুলো পুড়ে ছাই। ‘পথে বসে গেলাম’ বলে আহাজারি করেন তিনি।
 
ডিসিসি মার্কেটে কার্পেটের দোকান ছিল বাবর আলীর। দোকানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার কার্পেট ও থান কাপড় ছিল। তিনি বলেন, ‘কী বলব বাবা, আমার সব তো শেষ। কিছু মাল বের করতে পারছি, বেশির ভাগ মালই রয়ে গেছে।’ ব্যবসায়ী মো. রাসেল বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়েকে এই বছর স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। তাকে যে স্কুলে পাঠাব তার রিক্শা ভাড়াও আমার কাছে নাই। এখানে বড় বড় লোকজন আসছে, কথা বলছে। 
 
তবে ব্যবসায়ীরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না।’ আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান। এই মার্কেটে তাদের চার ভাইয়ের আটটি দোকান ছিল। ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছিলেন চার ভাই। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন। তাদের দোকানে ছিল ক্রোকারিজ, রেক্সিন ও ফ্লোর ম্যাট। কান্নারত মাহবুব বলেন, দোকান থেকে কিছু বের করতে পারেননি। চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়েছে।
 
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তালাল রিজভী বলেন, রাত আড়াইটার দিকে আগুন লেগেছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তখন ফায়ার সার্ভিসের মাত্র দুটি ইউনিট ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটের স্বল্পতার কারণে দুই মার্কেটই আগুনে পুড়েছে।
 
ডিসিসি কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শের মোহাম্মদ বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ভবনে ডিসিসির মালিকানা বাড়াতে বলা হয়। এরপর ডিসিসির মালিকানা বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করে নতুন চুক্তি হয়। কিন্তু দোকান মালিক সমিতি এরপর মামলা করলে ঠিকাদারি কোম্পানি সেখানে আর ভবন তুলতে পারেনি।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, নাশকতা নয়, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুন লেগেছে বলে আমরা ধারণা করছি।