মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন স্থগিত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এই স্থগিতাদেশ দেয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক স্মারকে  এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও রিটার্নিং অফিসার এবং জেলা নির্বাচন অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছেন, মঠবাড়িয়া উপজেলার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ৪র্থ পর্যায়ে নির্ধারিত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উক্ত উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ন্যায়সঙ্গত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন আদেশ প্রদান করেছে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন এ খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ইতোমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এদিকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির ও মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত আনোয়ার ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র   করে সেখানে হত্যা, প্রার্থীর উপর হামলাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হওয়ায় কমিশন ও পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি মঠবাড়িয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জনি তালুকদার হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌসসহ ১০ জন জামিন পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ৪ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন এ জামিন দেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী হাসান আব্দুল কাইউম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার গুলিসাখালী বাজারে গত ২৩ মার্চ রাতে নৌকা মার্কার প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকু ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোসহ ১৯ নেতা কর্মীকে কুপিয়ে জখম করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। এর দুইদিন পরে ২৫ মার্চ সকালে ওই মামলার আসামি হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জনি তালুকদারকে ইউনিয়নের কবুতরখালী এলাকার সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জনি তালুকদার মারা যায়। নিহত জনি তালুকদার ওই মামলার এজাহার নামীয় ৪২ নং আসামি ছিল।