‘খেলার মাঠ এখন মেলার দখলে। সারাবছর ধরে অসংখ্য মেলা আয়োজনের সুযোগ দেয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রামের মাঠগুলোতে এখন খেলাধুলা হয় না। চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড, আউটার স্টেডিয়ামসহ সবগুলো মাঠে একের পর এক মেলা হচ্ছে। শিশু-কিশোররা খেলতে পারছে না। এ কারণেই আগের মতো চট্টগ্রাম থেকে অধিক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারছে না।’
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের মুসলিম ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের সন্তান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ও সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খান যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘হুজ হু’ পুরস্কার পাওয়ায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্য সর্বজনবিধীত। অতীতেও সভ্যতার বিকাশে এই নগরের অসামান্য অবদান ছিলো। বর্তমানে এই অঞ্চলের সন্তানরা সারাবিশ্বের জন্য কাজ করছেন। এ কারণেই দেশের আরো ১০ জন অসামান্য ব্যাক্তিত্বের সাথে চট্টগ্রামের দুই কৃতিসন্তান এ পুরস্কার পেলেন।’
পুরস্কার পাওয়ায় অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি আমার পেশাজীবনে সব সময় মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানেও তাই করছি। পাশাপাশি দেশে এলেই, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সমস্যা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও, আমি যে কোনোভাবে এই নগরীর উন্নয়কে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করি। এই পুরস্কার পাওয়ায় আমি ব্যাক্তিগতভাবে খুবই সম্মানিত বোধ করছি।’
আকরাম খান বলেন, ‘ক্রিকেট এখন আমাদের গৌরব। অন্য অনেক ক্ষেত্রের মতো বিশ্ব এখন আমাদেরকে ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচকভাবে ভাবছে। সে কারণে এই ক্রিকেটের উন্নয়নের অংশীদার হতে পেরে এবং ক্রিকেটের জন্যই এই পুরস্কার পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে।’
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সাবিহা মুসা, ইউএসটিসির উপাচার্য প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমাম আলী, ড. জিনোবোধী ভিক্ষুসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠন সংবর্ধিত দুই ব্যাক্তিত্বকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।
প্রসঙ্গত, ‘হুজ হু’ যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংস্থা। সংস্থাটি ১৮৪৯ সাল থেকে সারা বিশ্বের অনুসরণীয় গুনীজনদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রকাশ এবং পদক দিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৩৩ হাজার গুণীজনের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রকাশ করেছে তারা। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ১২ জন গুণীজনকে ‘হুজ হু বাংলাদেশ পদক’ প্রদান করেছে তারা।
ইত্তেফাক/এএম।