‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ শনিবার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি মেলেনি। পুলিশ গত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হ্যাঁ-না কিছুই বলেনি। দলের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে সদুত্তর না পেয়ে ফিরে আসে। এ প্রসঙ্গে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপি সমাবেশের প্রস্তুতি সভা করেছে। দলের নেতারা বলছেন, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি না দিতে পারলে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও তারা করবেন। তারা অল্প সময়ের নোটিসে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। আজ সকালে অনুমতি পেলেও তারা বিকালে সমাবেশ করবেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ শনিবার বিকালে বিএনপির এই সমাবেশ হওয়ার কথা। এতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। সমাবেশের অনুমতি চেয়ে দলের পক্ষ থেকে গত ২৬ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগসহ পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়। গণপূর্ত বিভাগ শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে। তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
জানা গেছে, গত বছর ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। সেই সমাবেশের জন্য ১২ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে অনুমতি দিয়েছিল সরকার। দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, এবারো শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি পেলেও আমাদের আপত্তি নেই। বিএনপির সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ।
এদিকে জানা গেছে, আজ শেষ মুহূর্তে সমাবেশের অনুমতি না পেলে বিএনপি নতুন করে কর্মসূচির দিনক্ষণ দিতে পারে। এ ছাড়া সমাবেশ করতে না দিলে তারা কী করবে তা আজ সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হবে।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম জানান, দুপুরে তার নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে যান। তবে তারা ডিএমপি কমিশনারের সাক্ষাত্ পাননি। তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। তারা ইতিবাচক কিছু বলতে পারেনি। তবে দলের নেতারা আশা করছেন, তারা শেষ মুহূর্তে সমাবেশের অনুমতি পাবেন।
এদিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আপনারা আমাদের সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানেই সভা করার অনুমতি দেবেন। এভাবে গণতন্ত্রকে সংকুচিত করবেন না; এভাবে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেবেন না। দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। হাজারটা মত আসবে, পথ আসবে। সেখান থেকেই তো গণতন্ত্র বিকশিত হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছি, এখন পযর্ন্ত পাইনি। এখনও যদি অনুমতি দেন, জনসভা সফল করব। সেখানে না দিয়ে যদি পার্টি অফিসের সামনে দেন, তাহলেও আমরা জনসভা সফল করতে পারব। আমরা দুটো প্রস্তাবই রাখছি।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সরকারি দল ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সভা-সমাবেশ করলেও বিরোধী দলের বেলায় যত বিপত্তি। মূলত সরকার বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারকে কেড়ে নিয়ে একদলীয় দেশে পরিণত করেছে।