রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যার মূল হোতা ছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত সাদ্দাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে ৭টি হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। জঙ্গি সাদ্দাম হোসেনের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত সাদ্দাম উত্তরবঙ্গে নব্য জেএমবির প্রধান ছিল। ওই এলাকায় যতগুলো জঙ্গি হামলা হয়েছে তার সবগুলোর সঙ্গে সাদ্দাম জড়িত ছিল।
পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সি জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জুলাই মাসে পুলিশ আদালতে যে অভিযোগপত্র দেয়, তাতে সাদ্দাম হোসেনের নাম আসে। এছাড়াও রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা, পঞ্চগড়ের মঠ অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যা, কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে হত?্যা এবং বাহাই নেতা রুহুল আমীনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলার অভিযোগপত্রেও সাদ্দামকে আসামি করা হয়। এছাড়া গাইবান্ধার চিকিত্সক দীপ্তি, জঙ্গি সদস?্য ফজলে রাব্বি, ব?্যবসায়ী তরুণ দত্ত হত্যা এবং নীলফামারীতে মাজারের খাদেম ও দিনাজপুরে এক চিকিত্সককে হত?্যা চেষ্টা মামলাতেও আসামির তালিকায় নাম রয়েছে সাদ্দামের।
কে এই সাদ্দাম
নিহত সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ গ্রামে। তার বাবার নাম পাচু আলম জোলা, মায়ের নাম জোবেদা বেগম। ৬ ভাই বোনের মধ্যে সাদ্দাম পঞ্চম। বিবাহিত এবং একটি শিশু সন্তান রয়েছে তার। সে বিভিন্ন সময়ে চঞ্চল, রাহুল, সবুজ ও রবি নাম নিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জেএমবির জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
নিহত সাদ্দামের বাবা আলম জোলা জানান, সাদ্দাম ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। বাড়ি থেকেই কলেজে যাতায়াত করতো। ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিয়ে করে সাদ্দাম। আর গত বছর ১৪ এপ্রিল সাদ্দাম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যায়নি। সাদ্দামের স্ত্রী কোথায়, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন কোথায় আছে তা তিনি জানেন না। তবে সাদ্দামের বাবা ছেলের লাশ ফেরত চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার অভিযুক্ত অপর আসামি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গজপুরি এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলশান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মারজান এবং সাদ্দাম হোসেন নিহত হয়।