বিএনপি কার্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে পুলিশ

রাজধানীতে গতকাল শনিবার বিএনপি সমাবেশ করতে পারে এমন আশংকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং জনসভাস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বাধা দেওয়া হয় সেখানে প্রবেশে। সকাল থেকেই নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ-র্যাব মোতায়েন রাখা হয়। ছিল পুলিশ প্রিজনভ্যান, জলকামান এবং এপিসি কার। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে থেকে পল্টন থানার যুবদল নেতা নিজামউদ্দিন, কর্মী ইউনূস ও শহীদকে আটক করে পুলিশ।

 
সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে নাইটিঙ্গেল মোড় ও পূর্বপাশে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি। কার্যালয়ের ডান দিকে জলকামান, আর্মার্ড কারসহ পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি রাখা হয়। কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন কর্মী ছিলেন। সকাল থেকে বিএনপির কার্যালয়ের অভিমুখে কোনো নেতা বা কর্মীকে আসতে দেয়া হয়নি।
 
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে খবর ছিল তারা জোরজবরদস্তি করে এখানে সমাবেশ করতে পারে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি।
 
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, বিএনপির আজকের ঘোষিত সমাবেশকে ঘিরে যেন কোনো নাশকতা না হয় সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে কাকডাকা ভোর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের প্রতিটি গেটে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা অবস্থান নেন। কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
 
পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাত্ উদ্যানে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়ায় প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে আসা বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী ও পুরুষও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
 
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে সেজন্য উদ্যানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

ইত্তেফাক/এএন