‘ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় সঠিক পরিকল্পনা নেই’

দেশে ভূমিকম্পের মত দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনতে সঠিক পরিকল্পনা নেই। এ ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি নীতি নির্ধারকরা এখনও সচেতন নন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। তাই ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশের অভাবনীয় ক্ষতি হবে। এই ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়াবে ভবন নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়িত না হওয়ায়।
 
রবিবার রাজধানীতে ব্রাক ইন সেন্টারে ‘ভূমিকম্পে সাড়াদান ও প্রস্তুতি: ঘাটতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কর্মরত ১০টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সংগঠন ‘নারী কনসোর্টিয়াম’ এ অনুষ্ঠানের আয়োন করে। 
 
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে একশন এইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম। নগর ঝুঁকির দিক দিয়ে ১১তম। এখন বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ শহরে বাস করে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি হবে ৫০ শতাংশ। এটি ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেবে। অথচ  ভূমিকম্পের মত দুর্যোগের মোকাবেলা এবং ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনতে সঠিক পরিকল্পনা নেই। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যাও খুবই কম।  
 
বক্তারা বলেন, নির্দেশনা তৈরির ২০ বছর ও আইন হওয়ার প্রায় ১০ বছর পরেও  বাস্তবায়ন হয়নি ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’। এ কারণে অপরিকল্পিতভাবে শহর এবং গ্রামে ভবন নির্মাণ বাড়ছে। ভবনের অবকাঠামো ঝুঁকি দিনকে দিন বাড়ছে বাংলাদেশে। 
 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, গত ১২০ বছরে আমাদের ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হয়নি। তাই আমাদের সরাসরি জ্ঞান কম। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে ঘাটতি আছে।  তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। তিনি বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় আগে যন্ত্রপাতি ছিল না বললেই চলে। গত ২-৩ বছরে প্রায় ২২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আগামীতে আরো প্রায় ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হবে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই