‘কয়েকটি ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির বিষয়ে সরকার দোদুল্যমান’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, জীবনবোধের অবক্ষয়ের কারণে অব্যাহতভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে নরীর অর্জন আজ দৃশ্যমান এবং ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কাজেই নারীর জন্য যথাযথ নারী বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে এবং নারীকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু মহিলা পরিষদ লক্ষ্য করছে কোন কোন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির বিষয়ে সরকার দোদুল্যমান। যারই ফলাফল প্রস্তাবিত বাল্য বিবাহ আইনের বিশেষ বিধান রাখা এবং সিডও সনদের এই দুটি ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করা। এতে নারীর অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মহিলা পরিষদ মনে করে।
 
রবিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির বক্তব্য বিষয়ক সংবাদিক সম্মেলন এমন মন্তব্য করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। 
 
লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংঠনের অন্যতম সহ-সভাপতি এবং আন্দোলন উপ-পরিষদের ভরপ্রাপ্ত সম্পাদক রেখা চৌধুরী। সংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, অ্যাডভোকেসী ডিরেক্টর জনা গোস্বামী প্রমুখ। 
 
লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচন, আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করা। এই ব্যবস্থা কমপক্ষে ২টার্মের জন্য বলবৎ রাখা। এজন্য নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ করা, এজন্য সংবিধান সংশোধন করা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ তে বিশেষ বিধান বাতিল করা, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়া। জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ২০১৩  অনুসারে-রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষণ রাখা এবং  এই লক্ষ্য রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্রে  অর্ন্তভূক্ত করা তা  ও অনুসরণ করা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল জনগণের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ও রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আদিবাসীসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত, বিচার প্রক্রিয়াকে কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত না করা, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুনিশ্চিত করা, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক যে বিরোধপূর্ণ সঙ্কট তৈরি হয়েছে তার অবসান কল্পে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কোন ধরনের অপরাধীকেই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া চলবেনা, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এই নীতি অনুসরণ করে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, এবং ২০১১ সালে সিডও কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিডও সনদের ধারা ২ এবং ১৬-১ (গ) ধারা পূর্ণ অনুমোদন দাবি করা হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই