গৌরনদীর পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি

জাতির জনকের ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনবাজি রেখে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার নাম আজও তালিকাভুক্ত হয়নি। এদের মধ্যে আছেন উপজেলার কাণ্ডপাশা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, বংকুরা গ্রামের আক্কেল আলী বেপারী, আ. হাকিম বেপারী, আধুনা গ্রামের আকবর আলী আকন ও চন্দ্রহার গ্রামের আবুল হোসেন হাওলাদার। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। আক্কেল আলী বেপারী, আ. হাকিম বেপারী ও আকবর আলী আকন ছিলেন হেমায়েত বাহিনীর সদস্য। সকল প্রকার সনদপত্র থাকার পরও তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন কেউ কেউ।

 
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ’৭১ সালে ভারতের কল্যাণগড় ক্যাম্পে সাত মাস যাবত্ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আট নম্বর সেক্টরে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। তার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন বালীসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা। তাদের নাম তালিকাভুক্ত হলেও মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেলের নাম আজও তালিকাভুক্ত হয়নি। আক্কেল আলী বেপারী ফরিদপুরের জহরের কান্দি ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট, ঘাঘর, গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় সন্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। হাকিম বেপারী হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েতউদ্দিনের নির্দেশে ফরিদপুরের জহরেরকান্দি প্রশিক্ষণ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে হেমায়েত বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট, কোটালীপাড়ার শিকির বাজার, ঘাঘর এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। গেজেটভুক্ত না হতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
 
আকবর আলী আকন ৯নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হেমায়েতউদ্দিনের পরিচালিত ফরিদপুরের জহরেরকান্দি প্রশিক্ষণ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি হেমায়েতবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট, কোটালীপাড়ার শিকির বাজার, ঘাঘর এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনিও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
 
আবুল হোসেন হাওলাদার ভারতের চব্বিশ পরগনার হাসনাবাদের টাকী ক্যাম্পের আওতাভুক্ত থুবা ইয়ুথ ট্রেনিং সেন্টারে ক্যাম্প কমান্ডার মোহাম্মাদ আলীর অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। তার সকল প্রকার সনদ থাকা সত্ত্ব্বেও দীর্ঘদিনে তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তিনি দিনমজুরের কাজ করে জীবন ও সংসার চালাচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এএন