বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষত উচ্চ রক্ত চাপ ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি ইচ্ছা করলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাবার, অধিক ফল, বেশি করে সবজিগ্রহণ ও মানুষের খাদ্যাভাস পরিবর্তন জরুরি। পাশাপাশি ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড পরিহারের পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা।
সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভাসের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণালয় সর্ম্পতিক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) নামে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এ সেমিনারের আয়োজন করে। আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগ, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল চ্যানেল আই। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (আইডিআরসি) এর অর্থায়নে এ সর্ম্পকিত একটি গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভাসের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণার টিম লিডার ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। গবেষণা কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরেন সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এর পরিচালক এম আনিসুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি. ইমদাদ হক প্রমুখ।
ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, বাংলাদেশে ফাস্ট ফুড গ্রহণের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ফাস্ট ফুড গ্রহণ যাতে না বাড়ে সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি আমাদের ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরালো করা দরকার। তিনি ‘জাংক ফুড’ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কঠোর আইন করার কথা উল্লেখ করেন।
ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, এটা ঠিক যে আমাদের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তাই গবেষণার জন্য আমাদের আরো বাজেট বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা খাদ্যের পুষ্টিগুণ তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে তাঁরা নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে ও এই বিষয়ে সাফল্য আনতে বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তার মধ্যে কার্যকরি যোগসূত্র স্থাপনের আহ্বান জানান।
ইত্তেফাক/এমআই