কামারখন্দে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩য় শ্রেণির দুই ছাত্রকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কুটিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩য় শ্রেণির দুই শিশু ছাত্রকে যৌন হয়রানীর (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গা ঢাকা দিয়েছে শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। যৌন হয়রানীর শিকার দুই স্কুলছাত্রের পরিবার ও এলাকাবাসী শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন।

দুই স্কুলছাত্রের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, গত তিন মাস যাবৎ সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ৩য় শ্রেণির দুই ছাত্রকে কৌশলে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন হয়রানী করে আসছে। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ঘটনাটি জানালে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ছাত্ররা ছোট হওয়ায় ভয়ে অভিভাবকের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করার সাহস পায়নি।

গত ২১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের ছাত্ররা পাবনায় স্কাউট ক্যাম্পে যায়। সেখানে এক ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অপর এক ছাত্রকে যৌন হয়রানী করতে না দেওয়ায় বিদ্যুতের তার দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। গত দুই দিন ধরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক।

বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানের চাচাতো ভাই। আব্দুর রহমান ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কামারখন্দ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। শনিবার ওই বিদ্যালয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুনঃ রাণীনগরের বাঁশবাড়িয়া-তিলাবদুরী রাস্তা খানাখন্দে ভরা

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম জানান, ‘স্থানীয় সূত্রে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দুই ছাত্রের পরিবার মামলা দায়ের করবেন কি না তা তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বলে আমাদের জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু