চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি অবৈধ ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের বেচা-কেনা আবারো উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বৃত্তদের দ্বারা এসব অস্ত্রের বেপরোয়া ব্যবহারের উদাহরণ মিলেছে সাম্প্রতিককালে। অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্য দিবালোকে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ইয়াবা পাচারকারীদের কাছেও গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। অতিসম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চকরিয়ায় একটি অস্ত্র তৈরির কারখানা খুঁজে বের করে সেখান থেকে উদ্ধার করেছে অস্ত্রশস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশি-বিদেশি অস্ত্র এবং গুলি বেচা-কেনায় তত্পর রয়েছে অনেকগুলো সিন্ডিকেট। তারা পাঁচ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকায় বেচা-কেনা করছে নানা ধরনের ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অস্ত্র ও গুলির প্রধান ক্রেতা ডাকাত ও সন্ত্রাসী চক্র, রাজনৈতিক দলের কথিত আর্মড ক্যাডার, জলদস্যু সিন্ডিকেট, পেশাদার কিলার চক্র এবং ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সিন্ডিকেট। জানা যায়, ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যালিবারের পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিন, থ্রি নট থ্রি ও জি থ্রি রাইফেলের কর্তিত সংস্করণ বা কাটা রাইফেল ও গুলি, একনলা ও দোনলা বন্দুক, কার্তুজ ও এগুলোর কাটা সংস্করণ, পাইপ গান, লোকাল গান বা এলজি। ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি নানা ধরনের চাইনিজ কুড়াল, বিদেশি হান্টিং নাইফ বা ছুরি, দেশে তৈরি কিরিচ ও ধামা জাতীয় দেশি-বিদেশি ধারালো অস্ত্রও দুর্বৃত্ত চক্র কেনা-বেচা করছে। চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের আমদানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ী মহল। ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন দুর্বৃত্তদের হাতে যতো বেশি ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের যোগান আসবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ততো বেশি হুমকির মুখে পড়বে। বিশিষ্ট আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, প্রতীয়মান হচ্ছে, চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের বেচা-কেনা বেড়ে গেছে। পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, জেলার বিভিন্নস্থানে পুলিশের অভিযানে পাইপগান, লোকাল গান ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রই বেশি উদ্ধার হচ্ছে। সাথে মিলছে গুলি।
ইত্তেফাক/এএন