পৌষের শেষের দিকে এসে শীতে বিপর্যস্ত নাটোরের জনজীবন। মঙ্গলবার ভোর থেকে আকাশ থেকে ঝরছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। ফলে শীত বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। সকাল থেকেই নাটোরের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। পরিমাণে কম হলেও বৃষ্টির কারণে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এতে হঠাৎই বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা, বইছে হিমেল হাওয়াও। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী এবং খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত ১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আর এ দিন সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত রবিবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, 'পৌষ-মাঘের মাঝামাঝিতে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিও স্বাভাবিক। বৃষ্টিটা আরও কয়েকদিন আগেই হওয়ার কথা ছিল। গত বছর থেকে এই বৃষ্টিটা একটু পিছিয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ঠাণ্ডাও কিছুটা বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।'
মঙ্গলবার সকালে নাটোরের মাদ্রাসা মোড়ে কথা হয় শুভ, বাপ্পি, আসাদুলসহ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে। তারা জানান, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন তারা। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে কাজ না থাকায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে আজ বাড়িতে চুলা জ্বলবে কি করে তা নিয়ে চিন্তায় সময় পার করছেন তারা।
কানাইখালিতে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে অটোরিকশাচালক হযরত আলী বলেন, 'খুব সকালে যখন তিনি অটো নিয়ে বের হন, তখন কুয়াশার মধ্যে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছিল।' তিনি ভেবেছিলেন, শিশির পড়ছে। খানিক বাদেই যখন বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে, তখন তিনি বুঝতে পারেন-এ কোনো শিশির বিন্দু নয়, গা হিম করা পৌষের বৃষ্টি! এখন পেটের দায়ে বৃষ্টিতে ভিজেই রিকশা চালাতে হচ্ছে তাকে। তবে শীতে আর বৃষ্টিতে যাত্রী নেই বললেই চলে।
ইত্তেফাক/এসএস