কুমিল্লার চান্দিনায় এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চড় মারলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গিয়াস!
সোমবার (৯ জানুয়ারী) রাতে উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
এতে প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলাম এর বাম কান ও চোখে আঘাত প্রাপ্ত হন এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. সাজেদুল রশিদ এর কাছে চিকিৎসা নেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের নিজস্ব দোকান ভাড়া চাb স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভায়রার ছেলে ও নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মাস্টারের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন।
এ নিয়ে কয়েক দিন যাবৎ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঝামেলা করছিলেন গিয়াস। সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় দিকে প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলাম নবাবপুর বাজার সংলগ্ন মসজিদের এশার নামাজ আদায় করে ফেরার সময় ৪-৫জন যুবক এসে বড় ভাই (গিয়াস উদ্দিন) ডেকেছে বলে নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ডেকে নিয়ে যায়।
এসময় প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের কথায় রাজি না হওয়ায় গিয়াস উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের কানে-গালে চড় মারা শুরু করে। ঘটনার পরপর উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে বিদ্যালয় চত্তরের বাস ভবনে পৌঁছে দেন।
মঙ্গলবার সকালে তার বাম কান ও বাম চোখে আঘাতজনিত কারনে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নেন।
এব্যাপারে ভূক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে এখানে এসে চাকরী করি। ২০০৯ সালে নবাবপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এ এলাকায় আমার অনেক ছাত্র। এ ঘটনায় লজ্জায় আমি মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতেও চাই না। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ মহোদয় বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন, গিয়াস উদ্দিন স্থানীয় এমপির আত্মীয় ও নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে। সে নিজেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সে কখনও বিদ্যালয়ে যায় কি না আজও কেউ দেখেনি। এর আগেও তিনি আরও ২জন শিক্ষককে এভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।
এ ব্যাপারে গিয়াস উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘হেতে (সে) কারো কথাই শুনে না, হেতে মানুষের মানুষ মনে করে না, ঘুষ খোর। কথা কাটাকাটি হইছে, তার কানে ও মুখে রক্ত বাহির হইছে না। এমন প্রমাণ দিতো পারব না’।
ইত্তেফাক/এএন