পুলিশ অফিসার হতে চায় বনানীর সেই ‘হিরো’

আগুন জ্বলছে। বাঁচার আকুতির চিৎকার ছড়িয়ে পড়ছে চারদিক। তখন নিচে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন হাজারো মানুষ। তাদের অনেকে আবার আহাজারি করছিলেন, কেউবা তুলছিলেন ছবি। আর এই মানুষগুলোর কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। তাদের গাড়ি আটকা পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্স আসতে সমস্যা হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে।

তবে এর বাইরেও দেখা গেছে কিছু মানুষকে, যারা হাত মিলিয়ে ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে। এর মধ্যে ছিলেন ছাত্র, নারীসহ আরো অনেকে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে একটি ছোট্ট শিশুর কাজ ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

শিশুটির নাম মো. নাঈম ইসলাম। কড়াইল বস্তিতে বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে থাকে সে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা ডাব বিক্রি করেন। আর তার মা মেসে রান্নার কাজ করেন। ছোট এক বোন আছে তার। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের সময় উপস্থিত ছিল নাঈম। এসময় সে দেখতে পায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ফাটা পাইপ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সে ওই ফুটোটি হাত দিয়ে চেপে ধরে। কিন্তু পানির গতির সঙ্গে শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না সে। শেষে হাত-পা দিয়ে পাইপের লিকেজে পলিথিন পেঁচিয়ে ধরে বসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। প্রশংসায় ভাসছে সে।

আরো পড়ুন: ডিশের তার বেয়ে নামা সাজ্জাদের শেষ কথা, ‘আমার জন্য দোয়া করো’

নাঈম বলে, আমার মনে হচ্ছিল শতশত লোক মারা যাবে। আমি যদি পাইপটা ধরে রাখতে পারি তবে ফায়ার সার্ভিস পানিটা অগুন নেভানোর কাজে লাগিয়ে মানুষকে বাঁচাতে পারবে। আমি কোন ভয় পাই না। ওই সময় সবাই দোয়া করছিলো মানুষগুলা যেন বাঁচে। আমিও চাইছিলাম, একটু সাহায্য করে যদি কাউকে বাঁচানো যায়।

বড় হয়ে কী হতে চাও- এই প্রশ্নে নাঈম জানায়, সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। বনানীতে ওই কাজ করায় কোনো পুরস্কার চায় না বলেও জানায় সে।

এদিকে একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিশু নাঈমের এই মানবিক কাজে খুশি হয়ে তাকে উপহার স্বরূপ পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর ফারুক সামি। পাশাপাশি তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ