রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। রাজশাহী সফরের অংশ হিসেবে এ সেখানে যান তিনি। একাডেমিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত আইন–প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অগ্রগতি দেখেন মিলার। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয় এগিয়ে নেওয়াই ছিল তার এ সফরের লক্ষ্য।
পুলিশ একাডেমির ওই কর্মসূচিতে ১৩ হাজার ৭৭০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নতুন প্রশিক্ষণ কৌশল অনুযায়ী প্রথম কোনো বাংলাদেশি প্রশিক্ষকের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি জরুরি ফার্স্ট এইড কোর্স দেখেন।
গত ২৭ থেকে ২৯ মার্চের রাজশাহী সফরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আমেরিকান সেন্টারেরও উদ্বোধন করেন মিলার। এ ছাড়া তিনি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় পরিচালিত সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ কর্মকাণ্ড দেখেন এবং ইংলিশ অ্যাকসেস মাইক্রোস্কলারশিপ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্রও দেখেন।
রাষ্ট্রদূত মিলার আমেরিকান কর্নার, রাজশাহীকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করার জন্য বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান- বাংলাদেশে এখন এটিসহ চারটি আমেরিকান কর্নার আছে যেগুলো ঢাকার আমেরিকান সেন্টারের সম্প্রসারিত অংশ। প্রতি মাসে রাজশাহী আমেরিকান কর্নারে এক হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আসেন।
রাষ্ট্রদূত আমেরিকান কর্নারে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অ্যালামনাইদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এসব অ্যালামনাই সাংবাদিকতা, ইংরেজি শিক্ষা, সুশীল সমাজ, জীববিজ্ঞানের গবেষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তিনি রেডিও পদ্মায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত ‘আমেরিকান ইংলিশ রেডিও প্রোগ্রাম’ নিয়ে আলোচনা করেন। এর প্রতি পর্বের শ্রোতার সংখ্যা ১৩ লাখ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সহিংসতা প্রশমন বিষয়ক একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন মিলার। রাষ্ট্রদূত রেডিও স্টেশনটি পরিচালনাকারী দুজনের সঙ্গেও সাক্ষাত করেন যারা যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রদূত মিলার পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত ইংলিশ অ্যাকসেস মাইক্রোস্কলারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। ইংরেজি ভাষা ও নেতৃত্বের দক্ষতা সংক্রান্ত দুই বছরব্যাপী এই কর্মসূচিতে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশিরা অংশ নেয়।
স্থাপত্য ও প্রদর্শনী বিষয়ক সংস্কার এবং সংরক্ষণের কিছু কাজ দেখতে রাষ্ট্রদূত মিলার রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস অ্যামব্যাসেডর’স ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ তহবিলের আওতায় মোট এক লাখ ৯৩ হাজার ডলারের (১ কোটি ৬২ লক্ষ ১২ হাজার টাকা) তিনটি মঞ্জুরি সহায়তা দিয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ‘প্রজন্ম ওয়েভ’ নামের কয়েক পর্বের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের উদ্বোধন করেন। সহিষ্ণুতা, অহিংসা এবং তরুণদের সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করা এ চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। রাষ্ট্রদূত এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চার হাজারেরও বেশি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সদস্যের মধ্যে অনেকের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই কয়েকহাজার শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ২০১৬ সাল থেকে চলমান একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তারা স্থানীয় মানুষ ও এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।
রাষ্ট্রদূত মিলার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের পরদিন রাজশাহীতে পৌঁছান। রাষ্ট্রদূতকে সেখানে স্বাগত জানান রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মিলার শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আরও পড়ুনঃ বনানী অগ্নিকাণ্ডে সাবেক ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত
এ উপলক্ষে রাজশাহীতে বসবাস ও কর্মরত আমেরিকানদের সঙ্গে সাক্ষাতও করেন মিলার । তিনি এসময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শন ও সাক্ষাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত মিলার রস কদম, কমলা ভোগ এবং পেড়া সন্দেশের জন্য একটি স্থানীয় মিষ্টির দোকানে যান। তিনি বেগুন দিয়ে কলাই রুটি খান। এছাড়া পদ্মা নদীর তীরের টি বাঁধে হাঁটতে যান। পুঠিয়া প্রাসাদ ও রাজশাহী কলেজসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করে সফর শেষ করেন রাষ্ট্রদূত।
ইত্তেফাক/টিএস