ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভাসমান বাজার

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর  ভাসমান বাজার বসছে। নিয়ন্ত্রণহীন যত্রতত্র বাজার বসায় মহাসড়কে যানজট দিনদিন বেড়েই চলছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গত তিন মাসে ওই এলাকায় অজ্ঞাতনামাসহ ১৬ জন নিহত হয়েছে। অনুমতিবিহীন ও অব্যবস্থাপূর্ণ যেখানে সেখানে বাজার বসায় পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 
জানা যায়, হাইওয়ে থানা এলাকার বাঘের বাজার, নতুন বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, ১নং সিএন্ডবি, মাওনা ফ্লাইওভার, চৌরাস্তা কাঁচাবাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর, জৈনা বাজারসহ অন্ততপক্ষে ৩০টি স্থানে মহাসড়কের উপরেই যত্রতত্র বসছে অবৈধ হাট বাজার। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব অবৈধ হাটবাজার, কাঁচাবাজার যথাযথ কর্তৃপক্ষ দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে প্রতি দোকানপাটের জন্য একশ হতে ২৫০ টাকা পর্যন্ত খাজনা বাবদ আদায় করা হয়। এমন অনেক দোকানদার আছে যারা একটি ভাল পজিশনে ভ্রাম্যমাণ দোকান নেওয়ার জন্য আগে থেকেই ইজারাদারকে মোটা অংকের বকশিস দিয়ে থাকে।
 
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশের চটপটি দোকানদার হাতেম আলী জানান, তিনি প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানদারী করেন। তিনি ইজারাদারদের দৈনিক একশ টাকা করে দিয়ে প্রতিদিন রশিদ সংগ্রহ করেন। ফুটপাতের ভাসমান দোকানদার মাসুদ মিয়া, কামরুল ইসলাম, জয়নাল মিয়া, রমিজ উদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক দোকানদার জানান, প্রতিদিনই তাদের কাছে ইজারাদারের লোক এসে একশ টাকার রশিদ দিয়ে টাকা নিয়ে যান।
 
গাজীপুর শাহীন স্কুলের অভিভাবক স্বপন মিয়া জানান, মহাসড়কের উপর অবৈধভাবে কাঁচাবাজার বসানোর কারণে মাওনা চৌরাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। ৫ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে আধ ঘণ্টা সময় লাগে। ট্রাক ড্রাইভার আলম মিয়া জানান, মহাসড়ক চার লেন করা হয়েছে, আবার ওভারব্রিজও করা হয়েছে কিন্তু মাওনা চৌরাস্তায় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক দোকান বসানোর কারণে যানজট প্রতিদিন লেগেই থাকে।
 
ইজারাদার আলহাজ কামাল ফকির জানান,  ‘পৌরসভা থেকে আমি অস্থায়ীভাবে ইজারা নিয়েছি। ইজারার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় অস্থায়ীভাবে ইজারা আদায় করছি। তবে মহাসড়কের ওপর ভাসমান ফুটপাত ও কাঁচাবাজারের ইজারা না থাকলেও তিনি দৈনিক প্রতি দোকান থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছেন বলে জানান।
 
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন করা হলেও তিন  লেনই অবৈধ ফুটপাত ও কাঁঁচাবাজারের দখলে। মহাসড়কের উপর ভাসমান বাজার ও সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ড, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট লেগেই থাকে। মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নীচে মহাসড়কের উপরেই বসান হচ্ছে একের পর এক ভাসমান দোকান। মহাসড়ককে যানজট মুক্ত রাখার জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল পুলিশি অভিযান চালান হয়। তথাপি স্থানীয় কথিত ইজারাদার অভিযানের পরপরই আবার দোকান বসিয়ে দেয়। যার কারণে যানজট লেগেই থাকে।
 
এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ আনিছুর রহমান জানান, ‘মহাসড়কের উপর আমরা অস্থায়ী ভাবে কোনো ইজারা দেয়নি। যদি কেউ দোকান বসিয়ে ইজারা আদায় করে তাহলে তা অবৈধ।’
 
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল জানান, মাওনা চৌরাস্তাসহ মহাসড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট বসানোর কোনো নিয়ম নেই এবং এইসব দোকান থেকে খাজনা আদায়ের কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে ভাসমান ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএন