খাদির ক্যালেন্ডারে গান্ধীকে সরিয়ে মোদীর ছবি, কর্মচারীদের ক্ষোভ

 
ভারতে নতুন বছরের খাদির ক্যালেন্ডারে মহাত্মা গান্ধীর ছবির জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি ব্যবহারে ক্ষোভে ফেঁটে পড়েছে কর্মচারীরা। গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে সরকারি কর্মচারীরা খাদি ও ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রি কমিশনের (কেভিআইসি) সদরদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন।
 
কেভিআইসির একজন স্টাফ বলেন, এই সিদ্ধান্তে তারা “বেদনাগ্রস্ত” হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ পর্যায়ে শিল্পগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা গান্ধী তাঁর অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের গ্রামীন শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্যও আন্দোলন করেছিলেন। কেভিআইসি জানিয়েছে, তারা মোদীর ছবি ব্যবহার করেছেন কারণ তিনি গ্রামীণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সমর্থক। তিনি আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে খাদি ব্যবহার করে থাকেন। ঐতিহ্যগতভাইে কমিশন অফিশিয়াল ক্যালেন্ডার ও স্টেশনারিতে গান্ধীর ছবি ব্যবহার করে থাকে। এ বছর গান্ধীর সেই ছবি ব্যবহার না করায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অথচ এটা পরিবর্তন না করতে এর বিবৃতি দেওয়া হলেও সেটি রাখা হল না।
 
বেশকিছু কর্মচারী নতুন স্টেশনারি গ্রহণ করতে অপারগতা জানিয়েছে এবং কেভিআইস’র সামনে মৌন বিক্ষোভ পালন করেছে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ডায়রি এবং ক্যালেন্ডারে আমরা মোদীর ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু গান্ধী জি’র ছবি না দেখে কষ্ট পেয়েছি। কর্মচারীদের বরাত দিয়ে পিটিআই বার্তা সংস্থা একথা জানায়।  তারা আরো বলেন, আমরা শুধু জানতে চাই কেন গান্ধী স্থান পেল না? আর গান্ধীর কী খাদি শিল্পে কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই?
 
খাদি এন্ড ভিলেজ ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তে অটল। তাদের ক্যালেন্ডারে নরেন্দ্র মোদির যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে মোদিকে গান্ধীর মতো করে বসে চরকায় কাপড় বুনতে দেখা যাচ্ছে। খাদির চেয়ারম্যান ভিনাই কুমার সাক্সেনা একটি ভারতীয় বার্তা সংস্থা 'আইএএনএস'কে বলেছেন, "পুরো খাদি শিল্পই গান্ধীর দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কাজেই তাঁকে বাদ দেয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না।"তিনি বলেছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এখন খাদির সবচেয়ে বড় 'ব্রান্ড আ্যাাম্বাসাডর' বলে মনে করেন। সেজন্যেই ক্যালেন্ডারে তার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
 
তবে দিল্লির মূখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তিনি টুইটারে মন্তব্য করেছেন, কেউ চরকার সামনে বসে ছবি তোলার জন্য ‘পোজ’ দিলেই গান্ধী বনে যান না। বরং সবার উপহাসের পাত্রে পরিণত হন। একজীবনে কারও পক্ষে গান্ধী বনে যাওয়া সম্ভব নয়।
 

ইত্তেফাক/এএম।