আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এসব শ্রমিক নেতাদের মুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এ খাতের শ্রমিকদের মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবিও জানিয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১২টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। ওই সংসহতি সমাবেশে বিশিষ্ট নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মজুরি বৃদ্ধির ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করলে শ্রমিকদের উপর দমন-পীড়ন নেমে আসে। আশুলিয়ার শ্রমিকদের মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি ন্যায্য। মালিকপক্ষ দাবি না মেনে উল্টো শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। দেড় হাজারের উপরে শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৮ জন শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে শ্রমিকদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এটি জঘন্য ব্যবস্থা। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। এসব নিপীড়ন-নির্যাতনের সমুচিত জবাব দেয়ার দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে এ সময় শ্রমিক নেতারা বলেন, অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া শ্রমিকদের নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে।
এ সময় গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু আশুলিয়া আন্দোলনের ঘটনায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ শ্রমিকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তাজরীন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সরকার ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দেয়ার দাবি করছে। তাহলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করলে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে কেন? শ্রমিকদের দাবি ও আন্দোলনকে ন্যায়সঙ্গত দাবি করে তিনি বলেন, গত বছর সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বেড়েছে। ফলে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। অন্যান্য খরচ বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। ন্যুনতম মজুরি ৫ হাজার ৩শ’ টাকায় এ ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। এ জন্য শ্রমিকদের মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ধরে মোট মোট মজুরি কমপক্ষে ১৬ হাজার টাকা করতে হবে। আটক শ্রমিকদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম পথিকের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের জহুরুল ইসলাম, গার্মেন্টস টেক্সটাইল ফেডারেশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের শামীম ইমাম প্রমুখ। এছাড়া অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, ব্যরিস্টার সারা হোসেন, হামিদা হোসেন, ব্যরিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, চৌধুরী আশিকুল আলম প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।
ইত্তেফাক/এএম।