সুরের ধারার পৌষ উত্সব

 
রাজধানীতে গ্রামীণ আবহ। নাগরদোলা ঘিরে শিশুদের ভিড়, হৈচৈ। মঞ্চে ‘সুরের ধারার’ পরিচালক শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা খুদে শিল্পীদের নিয়ে গেয়ে উঠলেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে পৌষ উত্সব। সুরের ধারার আয়োজনে দুদিনের উত্সবে রয়েছে গান, নৃত্য, কথন, নাটক প্রভৃতি।
 
উত্সবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, ‘গ্রামের মেলা এখন শহরে এসেছে। আর গ্রামের মেলা গ্রামে এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামে এখন শুধু মেলা নয়, সংস্কৃতি চর্চাও আর আগের মতো নেই। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো নয়, তেমনই গ্রামের মেলা শহরে আসায় ভালো হয়েছে। সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়ে আমরা একেকজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার পথ খুঁজে পেতে পারি। আমরা জানতে পারি আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা সম্মৃদ্ধ প্রীতিময় জাতির ইতিহাস। এ সব মেলা আমাদের সেই ইতিহাস তুলে ধরে। আমি চাই এ রকম মেলার আরো বেশি বেশি আয়োজন হোক।’
 
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, গ্রাম আর শহরের মধ্যকার যে যোজন যোজন দূরত্ব ছিল তা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি আর প্রযুক্তির বদৌলতে কমে গেছে। গ্রাম আর শহর মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্থিরতা, অসহনশীলতার হাওয়া আমাদের সংস্কৃতিকে লেগেছে। এটাকে ঠেকাতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে হবে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তা হলেই আমাদের এ ধরনের আয়োজন পূর্ণাঙ্গ সাফল্য পাবে।
 
সকালের পর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করে সুরের ধারার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। শুরুতেই সুরের ধারার শিশু বিভাগের খুদে শিল্পীদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’ ও ‘শীতের হাওয়ার লাগল’। সুরের ধারা কলেজ অব মিউজিকের শিক্ষার্থীরা গেয়ে শোনান ‘এলো যে শীতের বেলা’, ‘হে পরমগুরু’, ‘হলুদ বসন্ত’ ও ‘আয়রে মোরা ফসল কাটি’। সুরের ধারার সাধারণ বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল কবিগুরুর বাউল ধারার গান। তাদের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ ও ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’। সন্ধ্যার এ আয়োজনের মঞ্চে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিনের কেক কাটা হয়। তিনি সুরের ধারা ও নিজের সঙ্গীত জীবন নিয়ে ‘সুরের ধারা পারিবারিক আচার’ শিরোনামে উপস্থিত দর্শকশ্রোতার সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। সুরের ধারার শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে নাটক ‘হিংসুটে দৈত্য’। কিশোরগঞ্জের খ্যাতনামা পালাকার ইসলাম উদ্দীন ও তার দলের পরিবেশনায় ‘কমলারানীর সাগরদীঘি’ পালা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের আয়োজন শেষ হয়।
 
আজ শনিবার সকাল থেকে মেলা উন্মুক্ত থাকবে সকলের জন্য। বিকাল তিনটায় শুরু হবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সুরের ধারার বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার পাশাপাশি মঞ্চস্থ হবে সুবচন নাট্য সংসদের নাটক ‘মহাজনের নাও’। আরো থাকছে নানা আয়োজন।